সর্বশেষ

আইন-আদালত

নিলামে কেনা স্থাবর সম্পত্তিতে ১৫% ভ্যাট অবৈধ: হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:২২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে কেনা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের নির্দেশকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, নিলাম ক্রেতার কাছ থেকে এভাবে ভ্যাট আদায়ের নির্দেশ দেওয়ার কোনো আইনগত কর্তৃত্ব নেই।

অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি হওয়া স্থাবর সম্পত্তির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ–সংক্রান্ত রুল ও সম্পূরক রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব রায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

মামলার নথি ও রিট আবেদন থেকে জানা যায়, একটি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান কার্যকরী মূলধন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঋণ আদায়ের জন্য ঢাকার অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। পরবর্তী সময়ে অর্থঋণ জারি মামলা হলে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৩(১) ধারার অধীনে ঋণের বিপরীতে বন্ধকি স্থাবর সম্পত্তি নিলামে তোলা হয়।

নিলামে আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২৪ কোটি টাকায় ওই সম্পত্তি কিনে নেন। তাদের দেওয়া দর আদালত অনুমোদন করার পর তাঁরা সম্পূর্ণ নিলামমূল্য জমা দেন। অর্থঋণ আদালত ওই অর্থ ও পাউন্ডেজ ফি গ্রহণের পর নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং প্রযোজ্য স্ট্যাম্প শুল্ক জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে নিলাম ক্রেতা এবং ডিক্রিদার ব্যাংক—উভয় পক্ষই আপত্তি জানায়। পরে আগের কয়েকটি রায়ের আলোকে অর্থঋণ আদালত ডিক্রিদার ব্যাংককে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ থেকে অব্যাহতি দিলেও নিলাম ক্রেতাদের আবেদন গ্রহণ করেননি। বরং তাঁদের নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও স্ট্যাম্প শুল্ক জমা দেওয়ার নির্দেশ বহাল রাখা হয়।

এরপর নিলাম ক্রেতারা হাইকোর্টে রিট করেন। গত ৮ এপ্রিল বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। রুলে নিলাম ক্রেতাদের ওপর স্ট্যাম্প শুল্কসহ ১৫ শতাংশ ভ্যাট জমা দেওয়ার নির্দেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।

পরে রুল ও সম্পূরক রুলের শুনানি হয় বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে। নিলাম ক্রেতাদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তানিম খান।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল ও সম্পূরক রুল চূড়ান্ত ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত বলেন, নিলাম ক্রেতাদের কাছ থেকে নিলামমূল্যের ওপর উৎসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে অর্থঋণ আদালত যে আদেশ দিয়েছিল, তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূতভাবে দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই আদেশের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই।

এ ছাড়া বিতর্কিত এসআরওর যে অংশে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে ‘পণ্যের নিলাম ক্রেতা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেই অংশও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালতের মতে, এরও কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ রায়ের ফলে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে কেনা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না। দেশের বিভিন্ন অর্থঋণ আদালতে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত বিচারিক নিলাম এবং এসব নিলামে স্থাবর সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে রায়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে তাঁরা মনে করছেন।

রায়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। সংসদ কোনো সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তরকে আইন দ্বারা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দিলে অধস্তন বা অর্পিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেই সম্পত্তির ওপর নতুন করে ভ্যাটের দায় সৃষ্টি করা যায় না—হাইকোর্টের রায়ে এমন অবস্থান উঠে এসেছে।

১২৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আইন-আদালত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন