সর্বশেষ

আইন-আদালত

শো’ন অ্যারেস্টের অপপ্রয়োগে কারাবন্দি মোহনা টিভির এমডি!

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
এক মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তির আগেই অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে গণমাধ্যম উদ্যোক্তা ও মোহনা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাহেদ আহমেদ মজুমদারের ক্ষেত্রে। পরিবারের দাবি, প্রায় এক বছর ধরে কারাবন্দী সাহেদ আহমেদ বিভিন্ন মামলায় অন্তত চারবার জামিন পেলেও প্রতিবারই তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৬ আগস্টও তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছে পরিবার।

সাহেদ আহমেদ মজুমদারকে গত বছর রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট আটক করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে গুলশান থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

পরিবারের অভিযোগ, গুলশান ও মিরপুর মডেল থানার পুরোনো মামলাসহ একাধিক মামলায় তাকে পর্যায়ক্রমে ‘শো’ন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে। ফলে আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ হয়নি তার। পরিবারের ভাষ্য, এসব মামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে সাহেদ আহমেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সংশ্লিষ্ট সময় তিনি ঘটনাস্থল বা সংশ্লিষ্ট এলাকাতেও ছিলেন না।

পরিবার আরও দাবি করছে, সাহেদ আহমেদ কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। যদিও তিনি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, তার মূল সম্পৃক্ততা ছিল সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে। গিটার ও ছবি আঁকার প্রতি তার আগ্রহ ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।

সাহেদ আহমেদের স্ত্রী বুশরা সাবাহ এমদাদের করা একটি মানবিক আবেদনের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৬ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-৩ শাখা থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে সাহেদ আহমেদকে সংশ্লিষ্ট মামলা থেকে অব্যাহতির বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ওই নির্দেশনার প্রায় এক মাস পরও তাকে নতুন একটি মামলায় ‘শো’ন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার।

তাদের দাবি, একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ফলে আদালত জামিন দিলেও সাহেদ আহমেদের কারামুক্তি হচ্ছে না। তদন্তের স্বার্থে ব্যবহৃত একটি আইনি প্রক্রিয়া এভাবে দীর্ঘদিন কাউকে আটকে রাখার উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে পরিবার।

মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী লালন হোসেন বলেন, জামিন একজন নাগরিকের আইনগত অধিকার। তার মতে, কোনো ব্যক্তিকে বারবার ‘শো’ন অ্যারেস্ট’ দেখানো হলে সেই অধিকার খর্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আলোচিত বা গুরুতর মামলার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী এমন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে; তবে অরাজনৈতিক কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ ন্যায়বিচার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ারও ‘শো’ন অ্যারেস্টের অপব্যবহারের আশঙ্কার কথা বলেছেন। তার বক্তব্য, কোনো আসামির বিরুদ্ধে অন্য মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তার তা আগে থেকেই জানা থাকার কথা। জামিনের পর নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হলে সেটির আইনি ভিত্তি স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

তার মতে, কোনো মামলার এজাহারে নাম না থাকা ব্যক্তি কিংবা সন্দেহভাজন কাউকে যথাযথ আইনি ভিত্তি ছাড়া ‘শো’ন অ্যারেস্ট দেখানো উচিত নয়। নতুন মামলায় কোনো ব্যক্তিকে এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর ক্ষেত্রে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বেআইনি গ্রেপ্তার, হয়রানি কিংবা ‘শো’ন অ্যারেস্টের অপব্যবহারের মতো চর্চা বন্ধ করে নাগরিকের ন্যায়বিচার, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

‘শো’ন অ্যারেস্ট’ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট ‘কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডন্যান্স-২০২৫’-এর মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যবিধিতে ১৬৭এ ধারা যুক্ত করা হয়। ওই ধারায় ‘শো’ন অ্যারেস্ট’–সংক্রান্ত বিধান এবং এ ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার বিষয় উল্লেখ ছিল।

পরবর্তী সময়ে ওই অধ্যাদেশ রহিত করে ‘কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’ করা হয়। ২০২৬ সালের ১১ নম্বর এই আইনেও ‘শো’ন অ্যারেস্ট’–সংক্রান্ত বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫১ ধারায় আদালতের সামনে বিচার বা অনুসন্ধানের সময় কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রতীয়মান হলে আদালতের তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করার ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় এই ধরনের গ্রেপ্তারকে অনেক সময় ‘শো’ন অ্যারেস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে সাহেদ আহমেদের ক্ষেত্রে একাধিকবার জামিনের পরও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ ওঠায় এই আইনি ব্যবস্থার প্রয়োগ ও সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সাহেদ আহমেদকে যেসব মামলায় ‘শো’ন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে, সেগুলো নিয়ে জানতে গুলশান ও মিরপুর মডেল থানায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন স্বামী কারাগারে থাকায় দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে বুশরা সাবাহ এমদাদ অনেকটা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনি সাহেদ আহমেদের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আইন-আদালত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন