ভারতে বয়স জালিয়াতি, কুস্তিতে বাদ ৫০০ জন
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের বয়সভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বয়স জালিয়াতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের গোন্ডায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বয়স গোপনের অভিযোগে অন্তত ৫০০ কুস্তিগিরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে স্কুল পর্যায়ের ফুটবল টুর্নামেন্ট সুব্রতো কাপ থেকেও বয়স জালিয়াতির অভিযোগে ২০টি দলকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে বয়স জালিয়াতির সমস্যা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় প্রকৃত বয়সের চেয়ে কম বয়স দেখিয়ে অংশ নেওয়ার প্রবণতা বিশেষ করে ক্রীড়ার জুনিয়র ও সাব-জুনিয়র পর্যায়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
গত জুনে উত্তর প্রদেশের গোন্ডায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে বয়স লুকানোর অভিযোগে অন্তত ৫০০ কুস্তিগিরকে প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনাটি ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল সুব্রতো কাপ স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে। গোন্ডার কুস্তি প্রতিযোগিতার এক বছরেরও কম সময় আগে বয়স জালিয়াতির অভিযোগে টুর্নামেন্ট থেকে ২০টি দলকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় বয়স কম দেখিয়ে অংশ নেওয়ার ফলে একজন খেলোয়াড় অন্যদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পান। জুনিয়র পর্যায়ে সাফল্য ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, বৃত্তি, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং জাতীয় পর্যায়ে খেলার পথ খুলে দিতে পারে। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি। বয়স কম দেখাতে পারলে উদীয়মান ক্রিকেটাররা নিজেদের বয়সী প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। ভবিষ্যতে পেশাদার ক্রিকেটে জায়গা করে নেওয়া কিংবা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) দল পাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি বড় সুবিধা তৈরি করতে পারে।
স্পোর্টস আইনজীবী ও এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রবন্ধের লেখক আহনা মেহরোত্রা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, বয়স জালিয়াতি এখন প্রায় মহামারির পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা রয়েছে—এমন প্রায় সব খেলাতেই কমবেশি এই সমস্যা দেখা যায়। তবে সাব-জুনিয়র ও জুনিয়র পর্যায়ে এর প্রকোপ বেশি।
মেহরোত্রার মতে, এই পর্যায়ে ভালো ফল করলে খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ ও পুরস্কারের পরিমাণ বাড়ে। অথচ খেলোয়াড়দের বয়সসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই এবং নিয়মিত নজরদারি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে কিছু অভিভাবক ও কোচ ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারেন।
ভারতের জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার নানা অসংগতি এবং ক্রীড়াবিদদের বয়সসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার না থাকাও সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই খেলোয়াড় বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন তথ্য ব্যবহার করছেন কি না, তা যাচাই করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে।
ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অব স্পোর্টস মেডিসিনের সভাপতি পিএসএম চন্দ্রনের মতে, ডোপিংয়ের মতো বয়স জালিয়াতিকেও আধুনিক ক্রীড়ার বড় সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত। তিনি মনে করেন, বয়স জালিয়াতি ঠেকাতে বর্তমান ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।
চন্দ্রন আরও বলেন, ডোপিংয়ের ক্ষেত্রে যেমন কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, বয়স জালিয়াতির ক্ষেত্রেও তেমন কার্যকর শাস্তি থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ক্রিকেট বোর্ড সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পদক্ষেপ নিলেও অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশনকেও আরও সক্রিয় হতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স জালিয়াতি বন্ধে শুধু প্রতিযোগিতার আগে কাগজপত্র যাচাই করাই যথেষ্ট নয়। খেলোয়াড়দের তথ্যের একটি নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা, জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে যাচাই এবং জালিয়াতির ঘটনায় কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে প্রকৃত বয়সের খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতায় ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে