২০২৭ সালের মধ্যে ১ কোটির বেশি শিক্ষার্থী পাবে পুষ্টিকর খাবার: প্রতিমন্ত্রী
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
২০২৭ সালের মধ্যে দেশের ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। খুলনায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ সার্বিক বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
খুলনার স্থানীয় একটি হোটেলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৫০টি উপজেলায় তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে এক বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই আগামীতে দেশজুড়ে বড় পরিসরে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, কোনো বিদ্যালয়ে নিম্নমানের খাবার কিংবা খাওয়ার অনুপযোগী ফল সরবরাহ করা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠাতে হবে। পচা বা বাসি খাবার সরবরাহের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ল্যাব টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে এবং সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক সংকটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে আইনি জটিলতা কাটিয়ে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগও পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। শিক্ষক বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন শিক্ষক নীতিমালার আওতায় যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বদলি ব্যবস্থা চালু করা হবে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক উপায়ে বদলি হওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে পূর্বের কর্মস্থলে ফেরত পাঠানো হবে।
শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রদানের দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষক নীতিমালা তৈরির কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এটি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে এবং এই নীতিমালার মাধ্যমে কোনো প্রাথমিক শিক্ষক হতাশ হবেন না। এছাড়া স্কুলগুলোতে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষকদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
১১৮ বার পড়া হয়েছে