সর্বশেষ

জাতীয়

তিন বছরে বন্ধ ৪শ'র বেশি গার্মেন্টস কারখানা: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে ৪০০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ১২৩টি সদস্য কারখানা রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত তিন বছরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য ৪০৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর বাইরে আরও কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে থাকায় মোট সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর নামের তালিকা তৈরির কাজ এখনো চলছে বলে জানান তিনি। সংসদ সদস্য রুহুল আমিন জানতে চেয়েছিলেন, বন্ধ কারখানাগুলোর সংখ্যা, নাম ও বন্ধ হওয়ার কারণ এবং পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পোশাক কারখানা বন্ধ হওয়ার পেছনে দেশি-বিদেশি নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা।

এ ছাড়া দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থপাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ইউরোপের বাজারে ভারতের ও ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং এসব দেশের সঙ্গে ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও পোশাক খাতের ওপর চাপ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বিদেশি ক্রেতাদের ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানা থেকে পোশাক কেনার ক্ষেত্রে অনাগ্রহকেও কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এসব কারণে বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো ব্যবসায়িকভাবে বেশি চাপে পড়েছে।

পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারের বিভিন্ন সহায়তার কথাও সংসদে তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রপণ্য রপ্তানিকারকদের জন্য এর সঙ্গে আরও শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা রয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা এবং পোশাক খাতে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা জানান। তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে।

জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় বাজার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অতিরিক্ত দাম নেওয়া, মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি, মূল্যতালিকা না রাখা এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের মাধ্যমেও সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত রাখা হবে এবং আরও জোরদার করা হবে।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন