বিদিশা এরশাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গুলশান থানায় করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিদিশা এরশাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার সকালে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন।
বিদিশা এরশাদের আইনজীবী মো. আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটির তামাদির সময় মওকুফ করে আপিল আবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত। তবে কারাবাসের মেয়াদ পর্যাপ্ত না হওয়ায় বিদিশার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
২০০৮ সালের একটি প্রতারণার মামলায় চলতি বছরের ২০ মে বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ের পর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলাটি ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দায়ের করেন ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।
মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে বিদিশা এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মোশাররফ হোসেন। পরে ঢাকার বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে তাঁদের মধ্যে চুক্তি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডাকেন। সেখানে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন বাদী। এরপর উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরে ফ্ল্যাটের পরিবর্তে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং ফ্ল্যাট বা টাকা—কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
মামলায় বাদী আরও দাবি করেন, বিদিশা তাঁকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেই রায়ের ভিত্তিতেই বর্তমানে বিদিশা এরশাদ কারাগারে রয়েছেন।
১২৩ বার পড়া হয়েছে