সর্বশেষ

জাতীয়

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি করার লক্ষ্য- স্লোগান নয়, পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী 

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই লক্ষ্য কোনো স্লোগান নয়; রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর মতে, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের আস্থার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, ইআরএল এবং ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আইডিবির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সুলায়মান আল জাসেরের বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তাঁকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়। আইডিবির চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দনও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, গত পাঁচ বছরে ড. আল জাসেরের নেতৃত্বে আইডিবি সদস্য দেশ ও মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদেও আরও বড় অর্জন হবে বলে বাংলাদেশ আশাবাদী। এ ক্ষেত্রে আইডিবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা জানান তিনি।

বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে আইডিবির সহযোগিতা পেয়ে আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এ সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। তাঁর মতে, এই অংশীদারত্ব শুধু অর্থায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর ভিত্তি হলো পারস্পরিক আস্থা, সংহতি ও অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করেছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য সামনে রেখে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই দশকে অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের উৎপাদনকেন্দ্র ও বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক খাত দেশের প্রবৃদ্ধির প্রথম বড় ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্পকে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকার এমন শিল্পকারখানা চায়, যেখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এমন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চায়, যা মানুষের মর্যাদা ও জীবনমান উন্নত করবে।

নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। হেলথ কার্ড চালুর কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে।

এ ধরনের চ্যালেঞ্জ কোনো দেশ এককভাবে মোকাবিলা করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ও আইডিবির সহযোগিতাকে আরও উদ্ভাবনী, দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম এবং ফলাফলভিত্তিক করার প্রত্যাশা জানান তিনি।

উন্নয়ন অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আইডিবি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাংলাদেশের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর জন্য স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদস্য দেশগুলোর বাড়তে থাকা চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে আইসিএফের পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশ আইসিএফের সুযোগ কাজে লাগাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পকে শুধু জ্বালানি খাতের একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন না প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশ ও আইডিবির অংশীদারত্ব কীভাবে অভিন্ন লক্ষ্যকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে পারে, এই চুক্তি তার একটি উদাহরণ।

আইডিবিকে মুসলিম উম্মাহর দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বিভিন্ন সদস্য দেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইআরএল প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও আইডিবির সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে আস্থাভিত্তিক ও ফলাফলমুখী অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরি হবে।

বক্তব্যের শেষে বাংলাদেশ সফর এবং দুই পক্ষের সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকার জন্য আইডিবির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সুলায়মান আল জাসেরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ-আইডিবি অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হয়ে দেশের জনগণ এবং বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন