খেলা আমাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য, বিভেদ সৃষ্টির জন্য নয়
বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ ৭:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিলাম, ফুটবল বা অন্য কোনো খেলাধুলা নিয়ে আর কোনো আলোচনা করব না।
গত কয়েকদিনে খেলার উত্তেজনা, আবেগ আর সমর্থনের টানে হয়তো এমন কিছু কথা বলেছি, যা কারও ভালো লাগেনি বা কারও মনে কষ্ট দিয়েছে। যদি সত্যিই এমন হয়ে থাকে, তাহলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। বিশ্বাস করুন, কাউকে ছোট করা বা অসম্মান করার কোনো ইচ্ছা কখনোই ছিল না।
আমার কাছে কোনো দল, কোনো খেলোয়াড় বা কোনো ট্রফির চেয়ে মানুষের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক অনেক বেশি মূল্যবান। খেলা আমাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য, বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য নয়। তাই মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠেই থাকুক, আমাদের সম্পর্কগুলো যেন মাঠের বাইরে অটুট থাকে।
গতকালের আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচ দেখে ব্যক্তিগতভাবে কিছু প্রশ্ন ও অনুভূতি তৈরি হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, আধুনিক ফুটবলে বাণিজ্যিক স্বার্থ অনেক বড় হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন বিতর্ক ও জুয়ার প্রভাব নিয়েও অনেক আলোচনা রয়েছে। তবে এগুলো আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ মাত্র। সত্যটা হয়তো সময়ই ভালো বলতে পারবে।
ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। একজন সমর্থক যেভাবে একটি ম্যাচ দেখবেন, একজন নিরপেক্ষ দর্শক সেটিকে ভিন্নভাবে দেখবেন, আর সেটাই স্বাভাবিক। মতের ভিন্নতা থাকবেই, কিন্তু সেই ভিন্নতা যেন পারস্পরিক সম্মান নষ্ট না করে।
তবে একটি বিষয় না বললেই নয়। কেপ ভার্দের মতো মিশরও বিশ্বের এক নম্বর দলের বিপক্ষে যেভাবে সাহস, আত্মবিশ্বাস আর লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ফলাফল যাই হোক, এমন ফুটবলই খেলাটিকে সুন্দর করে তোলে।
বর্তমান সময়ে ফুটবলকে ঘিরে যে বিতর্কগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলো অনেক সমর্থকের মনেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে খেলাটির স্বচ্ছতা, সৌন্দর্য এবং বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে। ফুটবল সবসময় ন্যায্য প্রতিযোগিতা, দক্ষতা এবং খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার প্রতীক হয়েই থাকুক।
আমার ব্যক্তিগত ধারণা, এবার হয়তো আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতবে না। তবে সেটি কেবলই একটি ফুটবল-ভিত্তিক অনুমান, এর বেশি কিছু নয়। শেষ পর্যন্ত মাঠের খেলাই শেষ কথা বলবে।
আর একটি ইচ্ছা আছে, এবার বিশ্বকাপে এমন একটি নতুন দল চ্যাম্পিয়ন হোক, যারা ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখবে। ফুটবল নতুন নায়ক, নতুন গল্প আর নতুন স্বপ্নের জন্ম দিক।
আজ থেকে আমার টাইমলাইনে ফুটবলের বিতর্ক নয়, বরং জীবনের গল্প, কাজের কথা, ভালোবাসা, শিক্ষা এবং ইতিবাচক ভাবনাগুলোই বেশি জায়গা পাবে। নিজের ছবিগুলো থাকুক স্মৃতির মতো, আর সম্পর্কগুলো থাকুক সব তর্কের ঊর্ধ্বে।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। ভালোবাসা ও সম্মান সবার জন্য।
লেখকঃ শিক্ষা পরামর্শক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
(লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)
১৩৯ বার পড়া হয়েছে