কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর লাভজনক খাতে রূপান্তরের পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, কৃষক ডাটাবেজ তৈরি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে কৃষক নিবন্ধন, জাতীয় কৃষক ডাটাবেজ, ডিজিটাল কৃষি সেবা, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি পরামর্শ এবং ই-এক্সটেনশন সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সেবা চালুর কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
তিনি জানান, কৃষকদের সরকারি সেবা সহজে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রমিকসংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের সময় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষির আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ড্রোন প্রযুক্তি, জিআইএস, স্যাটেলাইট তথ্য এবং বিগ ডাটার ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, রোগ শনাক্তকরণ, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা আরও কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, তথ্যনির্ভর প্রিসিশন এগ্রিকালচার চালুর মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোন সময়ে কোন ফসল চাষ উপযোগী, কতটুকু সার প্রয়োজন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস—এসব বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার, বায়োফার্টিলাইজার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে জলবায়ু-সহনশীল ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের চলমান উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক, রপ্তানিমুখী এবং টেকসই খাতে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
১১৭ বার পড়া হয়েছে