কে এই পলাশ কান্তি?
ধর্মের পোশাকে আরেক প্রতারক, নাকি দেশবিরোধী এজেন্ডার মুখ!
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬ ৯:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গাইবান্ধার হরিদাসের পর এবার আলোচনায় আরেক চরিত্র — পলাশ কান্তি দে।
প্রশ্ন হলো, কে এই পলাশ কান্তি? কী তার আসল পরিচয়? আর কী তার লক্ষ্য?
পলাশ কান্তি দে এবং তার সংগঠন মূলত আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের কিছু নেতার আশীর্বাদে পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নির্দিষ্ট কিছু এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি কাজ করেছেন — যার মধ্যে ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভেতরে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব তৈরির প্রয়াস।
তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে ভারতের হিন্দুত্ববাদী আদর্শের প্রচ্ছন্ন প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে:
· পলাশী বাড়ির রাম মন্দির ইস্যুতে তিনি সরাসরি উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন।
· তিনি বলেছেন, "প্রয়োজনে পলাশবাড়ি থেকে মুসলমানরা চলে যাবে, তারপর মন্দির তৈরি হবে" — এ ধরনের বক্তব্য তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে চেয়েছেন, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নতুন একটি সনাতনী প্ল্যাটফর্ম এবং হিন্দু মহাজোটের একাংশের তরুণ কর্মীদের মাধ্যমে আরএসএস-এর আদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্ল্যাটফর্মের স্লোগান ও কর্মপদ্ধতি ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সাথে আশ্চর্যজনক সাদৃশ্যপূর্ণ, এবং এর পেছনেও রয়েছে পলাশ কান্তির গোপন সম্পৃক্ততা। পলাশ কান্তির সাথে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে — যা ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম (ডিআরএফ)-এর বিশ্লেষণে প্রকাশিত হয়েছে।
হিন্দু মহাজোট বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার করছে, তা অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন। এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য — বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করা, যার সাথে পলাশ কান্তির প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু রাজনৈতিক ব্লগে দাবি করা হচ্ছে যে, পলাশ কান্তি এবং তার ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা ভার/তের কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতাদের সাথে গোপন ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক!
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা:
পলাশ কান্তি দে সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (বিএল) ও ভারতীয় (আইএন) এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রতিটি কর্মকাণ্ডেই যেন ধর্মীয় বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টির একটি গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে।
প্রশ্ন জাগে—যদি তিনি সত্যিই ভার/তীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (R-A-W)-এর এজেন্ট হয়ে থাকেন, তাহলে কেন তিনি এখনও বাংলাদেশে অবস্থান করছেন?
তাঁকে বরং স্বাগত জানানো উচিত তাঁর নিজ দেশ ভারতে ফিরে যেতে — সেখানেই তিনি তাঁর এজেন্ডা নিয়ে স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারেন। বাংলাদেশ কখনোই কোনো বিদেশি গোয়েন্দা এজেন্টের খেলার মাঠ নয়।
পলাশ কান্তি দে-এর মতো ব্যক্তিরা ধর্মের নামে বিভাজন তৈরি করে দেশের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাদের উদ্দেশ্য শুধু মন্দির বা পূজা নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি নষ্ট করা। এই চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে সজাগ থাকা এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাই।
সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান — মনে রাখবেন দেশ আমাদের একমাত্র ঠিকানা।
লেখক: গবেষক ও বিশ্লেষক।
(লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)
১২৭ বার পড়া হয়েছে