মানিকগঞ্জে যমুনার ভাঙনে বিলীনের পথে সাড়ে ৩ কোটির নতুন মাদ্রাসা ভবন
বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে সদ্য নির্মিত সাড়ে তিন কোটি টাকার একটি চারতলা মাদ্রাসা ভবন। যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া নদী তীরবর্তী এলাকায় এমন বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মূল্যবান আসবাবপত্র।
দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবনির্মিত চারতলা ভবনটি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি একসময় নদী থেকে বেশ দূরে থাকলেও, ক্রমাগত ভাঙনে নদী এখন সীমানাপ্রাচীর ছুঁয়েছে। প্রায় ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরই করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ইতিমধ্যে মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীরের একাংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। তীব্র স্রোতের কারণে ভবনের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় পুরো স্থাপনাটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীরা মাদ্রাসার প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, চেয়ার-টেবিল ও আলমারি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন, নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় কোনো প্রকার সঠিক পরিকল্পনা এবং যথাযথ মনিটরিং ছাড়া এতো বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয় করে বহুতল ভবন নির্মাণ চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়। এই অপরিকল্পিত কাজের খেসারত দিতে হচ্ছে এখন সাধারণ মানুষকে।
কেবল এই মাদ্রাসাই নয়, যমুনার করাল গ্রাসে বাঘুটিয়া, বাচামারা, জিয়নপুর ও চরকাটারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন হুমকির মুখে। ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাঘুটিয়া ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, ঐতিহ্যবাহী বাঘুটিয়া পুরাতন বাজারসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি ও শত শত একর ফসলি জমি। গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কায় অনেকে নদীপাড়ের বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছেন।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা বাকি বিল্লাহ জানান, ভবনটি এখন পুরোপুরি অরক্ষিত। নদীভাঙনের তীব্রতা এতো বেশি যে চোখের সামনেই সীমানা প্রাচীর ধসে গেছে। অন্যদিকে, মানিকগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইশতিয়াক ইকবাল হিমেল জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড এটি রক্ষায় কাজ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, চরকালিকাপুর এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনের গতি বেশি থাকায় মাদ্রাসাসহ আশপাশের বসতভিটা এখনো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
১০৮ বার পড়া হয়েছে