উখিয়া ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮, সংখ্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনা
বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ ১১:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে একটি মাদ্রাসার ওপর পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত আট শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আহত ও নিখোঁজ থাকার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বুধবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পের ‘এ-থ্রি’ ব্লকে অবস্থিত খাদিজাতুল কোবরা মাদ্রাসা ও হিফজখানার ওপর পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত আট শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় ৩০ থেকে ৫০ জনের বেশি শিশু কোরআন শিক্ষায় অংশ নিচ্ছিল। পাহাড়ধস শুরু হলে কয়েকজন দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও অনেকেই মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যাম্পের বাসিন্দারাই খালি হাতে মাটি সরিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভারী বৃষ্টির মধ্যেই উদ্ধার অভিযান জোরদার করেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার ডলার ত্রিপুরা জানান, সম্ভাব্য সব ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযান চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বর্ষণে কক্সবাজার অঞ্চলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে পাহাড়ধসে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন রোহিঙ্গা এবং তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা।
১১৬ বার পড়া হয়েছে