ধর্ষণে জন্মানো সন্তানকে পিতৃপরিচয় দেয়ার ঐতিহাসিক রায়, আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ ১১:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নেত্রকোনায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণের মামলায় আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তানকে আসামির বৈধ উত্তরাধিকারী ও পিতৃপরিচয় দেওয়ার ঐতিহাসিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর আইনি লড়াইয়ের পর ট্রাইব্যুনাল বুধবার এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন।
নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী প্রকৃতির। আসামি হেলাল প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে গর্ভবতী অবস্থায় ওই নারী আইনের দ্বারস্থ হন। তবে কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার কিছুদিন পরেই স্বাভাবিকভাবে মারা যান তিনি।
মায়ের মৃত্যুর পর শিশুটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে সে একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে আদালতের নির্দেশে ওই শিশুর ডিএনএ টেস্ট করা হয়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে শিশুটি হেলালেরই সন্তান। যদিও আসামি শুরু থেকেই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নিহতের বোন। তিনি জানান, বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরে অবশেষে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন, যা তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক।
১১৮ বার পড়া হয়েছে