সর্বশেষ

রাজনীতি

৭ নভেম্বর

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাজপথে বড় শোভাযাত্রার প্রস্তুতি বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ৩:২৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
দীর্ঘদিন পর রাজপথে বড় পরিসরে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজন করেছে দলটি। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক কর্মসূচির বিপরীতে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও রাজপথের উপস্থিতি জানান দেওয়াই বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে ৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার সরাসরি নেতৃত্বে বড় কোনো রাজপথের কর্মসূচি হতে যাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। কর্মসূচি সফল করতে ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২১ বছর আগে ২০০৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমা, প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন এবং দেশে প্রত্যাবর্তনের পর এবার প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে রাজধানীর রাজপথের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন তিনি।

২০০৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে বড় শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান এতে নেতৃত্ব দেন।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিকেল পাঁচটায় শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সেটি সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিটের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

পরের বছর ২০০৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আরেকটি বড় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তারেক রহমানও কখনো নেতাকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে, আবার কখনো গাড়িতে থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

তবে এবারের কর্মসূচির বিশেষত্ব হলো, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান নিজেই কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন। ফলে দুই দশকের বেশি সময় আগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির সঙ্গে এবারের আয়োজনের একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।

২০০৭ সালের ৭ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাবন্দী ছিলেন তারেক রহমান। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। এরপর জাতীয় নির্বাচনের প্রচারে বিভিন্ন এলাকায় জনসভায় অংশ নেন।

বিএনপির নেতারা এবারের শোভাযাত্রাকে কেবল ঐতিহাসিক দিবস পালনের কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন না। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের ঐক্য, সাংগঠনিক শক্তি এবং রাজপথে সক্রিয় থাকার সক্ষমতা তুলে ধরারও একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন তাঁরা।

রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক লংমার্চ ও সমাবেশের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বড় সাফল্য পাওয়ার পরও বিএনপি কোনো বিজয় র‍্যালির আয়োজন করেনি। সরকার গঠনের প্রায় সাড়ে আট মাস পেরিয়ে গেলেও রাজপথে বড় পরিসরে দলীয় কর্মসূচি দেখা যায়নি।

এ অবস্থায় ৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য, ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের মতো বিষয়ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আলোচনায় রেখেছে।

কর্মসূচি সফল করতে গত ২৬ অক্টোবর দলের যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা করেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সভায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এরপর ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন টিম গঠন করে দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে।

শোভাযাত্রায় যুবদলের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান জানান, কর্মসূচি সফল করতে তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্ব দেবেন—এ কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ কাজ করছে।

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানও জানান, শোভাযাত্রায় অংশ নিতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি ঘিরে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। কোনো রাজনৈতিক দল র‍্যালি বা সমাবেশ আয়োজন করলে জাতীয় পর্যায়ে মানুষের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে যায়।

তিনি বলেন, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আগে শক্তিশালী ছিল, এখনো আছে। দেশের যেকোনো প্রয়োজনে দল ও সাংগঠনিক নেতারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবেন। সেটি শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ কিংবা বিরোধী দল—যেই হোক না কেন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়গুলো সামনে আনছে বিএনপি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করা, গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন এবং মানুষের কথা বলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের চর্চা এবং জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একে একে বন্ধ দরজা খুলে দিয়েছিলেন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৭ নভেম্বর সকাল ছয়টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জাতীয় নেতারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং ফাতেহা পাঠ করবেন।

এ ছাড়া রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রার পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে কর্মসূচি পালন করা হবে। ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে শোভাযাত্রা করবে দলটি।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ১০ নভেম্বর যুবদলের আলোচনা সভা, ৫ নভেম্বর শ্রমিক দলের আলোচনা সভা, ৯ নভেম্বর বেলা ১১টায় কৃষক দলের আলোচনা সভা এবং একই দিন বিকেল তিনটায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ছাত্রদল ৭ নভেম্বর বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং ৮ নভেম্বর আলোচনা সভা করবে। ওলামা দল এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের কর্মসূচি নিয়েছে।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০