টেকনাফে নিহত সেনাসদস্য তিতাসের বাড়িতে শোকের মাতম
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের (২৮) মৃত্যুর খবরে ফরিদপুরের নগরকান্দায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছেলের মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না মা-বাবা। স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে লস্করদিয়া গ্রামের পরিবেশ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা শোকে মুহ্যমান। তাঁদের কান্না ও আহাজারিতে বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিতাসের বাবা আফজাল শেখ একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। তাঁর ছোট ভাই আকরাম হোসেনও সেনাবাহিনীতে কর্মরত। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিতাস ছিলেন সবার বড়।
২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন তিতাস। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। আগামী ডিসেম্বরে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিতাস। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তিতাসের বুকের বাঁ পাশে লাগে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা বলার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে আছেন মা রেখা বেগম। তিনি জানান, গত বুধবার রাতে তিতাসের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। তখন ছেলে তাঁকে বলেছিলেন, ‘আগামীকাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’
ছেলের মুখে বলা সেই কথাই যে তাঁদের শেষ কথা হয়ে থাকবে, তা কখনো ভাবেননি রেখা বেগম।
এদিকে স্বামীকে হারিয়ে শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। অন্যদিকে ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা আফজাল শেখ। তাঁর চোখের পানি যেন থামছেই না।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার বিকেলে হেলিকপ্টারে করে তিতাসের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
তিতাসের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগে গর্বিত তাঁর পরিবার। তবে সেই গর্বের পাশাপাশি প্রিয়জনকে হারানোর গভীর শোক তাঁদের প্রতিটি মুহূর্তকে ভারী করে তুলেছে। স্বজনেরা এখনো তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না।
১১১ বার পড়া হয়েছে