সর্বশেষ

খেলা

সিলেট টেস্টে ৮৮ রানেই ৩ উইকেট হারাল বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার
স্পোর্টস রিপোর্টার

শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে করা ৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৮৮ রান। তবে শেষ বিকেলে তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে দলকে। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়দের চেয়ে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় ২৯ এবং মুশফিকুর রহিম ১৯ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৩৭ রান।

দিনের শেষ ভাগে উইকেট না হারানো বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির হলেও ব্যাটিংয়ে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। নতুন বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ২২ রানেই দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

সাদমান ইসলামের চোটের কারণে ওপেনিংয়ে নামা নাঈম হাসান ৫ রান করে ফিরে যান। এরপর তানজিদ হাসান তামিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। কেভিন উইকহ্যামের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান।

চা-বিরতির আগে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে ২৯ রানের জুটি গড়ার পর শামার জোসেফের বলে বোল্ড হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তাঁর বিদায়ে ৫১ রানেই তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। শেষ বিকেলে দুজন আর কোনো বিপদ হতে দেননি।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের সকালে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ছয়টি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হয় বাংলাদেশের বোলাররা। আগের দিন ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে খেলা শুরু করা ক্যারিবীয়রা শেষ পর্যন্ত ১০৬ দশমিক ৪ ওভারে ৩৫৬ রানে অলআউট হয়।

শেষ উইকেটে জোমেল ওয়ারিকান ও জেইডেন সিলস ৬৭ বলে ৩৩ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সিলস ১৫ রান করে এলবিডব্লিউ হলে ভাঙে সেই জুটি। ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়ারিকান।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৯০ রান দিয়ে একাই তুলে নেন ৬ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ পেয়েছেন দুটি করে উইকেট।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে দারুণ বোলিং করেন বাংলাদেশের পেসাররা। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে ৮ উইকেটে ৩২২ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওই সেশনে ৮৭ রান যোগ করলেও হারায় চারটি উইকেট। এর মধ্যেই নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান মাহমুদ।

ক্যারিবীয়দের ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান আমির জাঙ্গুর। ২১২ বলে ১৩টি চার ও দুটি ছক্কায় ১৩৩ রান করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন কেভিন উইকহ্যাম ও জাস্টিন গ্রেভস।

মাত্র ২৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে আমির জাঙ্গু ও কেভিন উইকহ্যাম ১৩১ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন। ৬১ রান করা উইকহ্যামকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ।

এরপর জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রেভস মিলে যোগ করেন ১০৬ রান। দ্বিতীয় দিনের সকালে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাংলাদেশের বোলারদের প্রতিরোধ করেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত এক ওভারে জোড়া আঘাত হেনে ম্যাচে বাংলাদেশকে ফেরান হাসান মাহমুদ। প্রথমে জাঙ্গুর উইকেট ভেঙে দেন তিনি। পরের বলেই অধিনায়ক রস্টন চেজকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন এই পেসার।

জসুয়া বিশপকে ২৩ রানে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। অন্যদিকে ৫১ রান করা জাস্টিন গ্রেভসকে বোল্ড করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এর আগে প্রথম দিন আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ করতে হয়েছিল। সেদিন মোট ৭০ ওভার খেলা হয়, যা নির্ধারিত ৯০ ওভারের চেয়ে ২০ ওভার কম। প্রথম দিন শেষে চার উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে ভালো অবস্থানে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আমির জাঙ্গু ১১১ এবং জাস্টিন গ্রেভস ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।

দিনের শুরুতে অবশ্য বাংলাদেশের পেসারদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ২৭ রানে তিন উইকেট হারানোর বিপদে ফেলেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে তাসকিনের বলে বোল্ড হন ব্রেন্ডন কিং। তাঁর সংগ্রহ ছিল ৯ রান। পরের ওভারে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফেরেন কাভেম হজ। এরপর জসুয়া ডা সিলভাকে ১২ রানে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে পাঠান তাসকিন।

তবে শুরুতে পাওয়া সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরি এবং পরবর্তী ব্যাটারদের প্রতিরোধে ৩৫৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে হৃদয়-মুশফিকের জুটি কিছুটা আশা জাগালেও ম্যাচে এখনো যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিক দল।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
খেলা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০