প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনীতিতে গুরুত্ব বৃদ্ধির আলোচনায় তারেক রহমান
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬ ৬:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কৃষি, খাদ্য উৎপাদন এবং স্থানীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও এই জনগোষ্ঠীর অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার অভিযোগ করে আসছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকার গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিলেও তৃণমূলের মানুষের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার বিভিন্ন কর্মসূচি প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসে। তাঁর শাসনামলে গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে বিএনপির নেতারা উল্লেখ করে থাকেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, তারেক রহমানও রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তৃণমূলকেন্দ্রিক রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অনুষ্ঠিত তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
দলের নেতাদের মতে, পরবর্তী সময়ে বিদেশে অবস্থান করেও তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখেন। তাঁদের দাবি, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৃণমূল পর্যায়ের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বলে বিএনপির নেতারা জানান। তাঁদের মতে, কক্সবাজার, ঠাকুরগাঁও, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের সমস্যা, উন্নয়ন চাহিদা ও স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তৃণমূলমুখী রাজনৈতিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
১৩০ বার পড়া হয়েছে