গরিবের ওপর না চাপিয়ে ধনীদের থেকে কর আদায়ের পরামর্শ বাংলাদেশ ন্যাপের
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬ ১:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে অবকাঠামোনির্ভর উন্নয়ন মডেলের পরিবর্তে জনকল্যাণমুখী ও মানুষকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
দলটির নেতারা বলেছেন, গরিব মানুষের ওপর করের বোঝা না বাড়িয়ে ধনীদের কাছ থেকে কর আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
সোমবার (৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি এবং মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এই আহ্বান জানান। বিবৃতিটি দলের প্রচার সম্পাদক গোলাম মোস্তাকিন ভুইয়া স্বাক্ষরিত।
নেতারা বলেন, ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি জনবান্ধব অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য একটি দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও প্রগতিশীল করনীতি প্রণয়ন করে ধনীদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ জোরদার করার পাশাপাশি গরিব মানুষের ওপর করের চাপ কমাতে হবে।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দা, খাদ্য নিরাপত্তা সংকট, কর্মসংস্থান ঘাটতি এবং নতুন দারিদ্র্য মোকাবিলায় কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণির জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকা উচিত। বাজেটের অন্তত ৮ শতাংশ কৃষিখাতে বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি কৃষিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশ ন্যাপ নেতারা খাদ্য মজুদ সক্ষমতা বাড়ানো, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য সহায়তা চালু করা এবং সারের ভর্তুকির পরিবর্তে কৃষকদের সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। একইসঙ্গে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে একটি মূল্য কমিশন গঠনেরও দাবি জানান তারা।
শ্রমিকদের বিষয়ে তারা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের জন্য সেক্টরভিত্তিক বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকৃত শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরি করে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর এবং কর্মহীন শ্রমিকদের জন্য জামানতবিহীন, সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের দাবি জানানো হয়।
নেতারা অভিযোগ করেন, অতীতের অবকাঠামো-কেন্দ্রিক উন্নয়ন মডেলে স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল এবং প্রকল্পনির্ভর অর্থনীতিতে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা মানুষ ও প্রকৃতি কেন্দ্রিক উন্নয়ন নীতি গ্রহণের ওপর জোর দেন।
বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রসঙ্গে তারা বলেন, বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে খাতটির দুর্নীতি ও অপচয় কমানো উচিত। কারণ ভর্তুকির অর্থ শেষ পর্যন্ত জনগণের পকেট থেকেই আসে।
বাংলাদেশ ন্যাপ মনে করে, বাজেট কেবল অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা নয়; এটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন দর্শনের প্রতিফলন। তাই জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি স্বচ্ছ ও টেকসই অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে