কলাপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহের অভিযোগে শিক্ষক জড়িত, এখনো শাস্তি অনিশ্চিত
শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬ ৪:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীকে উত্তরপত্র লিখে সহায়তার অভিযোগে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রমাণ মিললেও এখনো তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে অর্থের বিনিময়ে এক পরীক্ষার্থীকে নকলের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে শুধুমাত্র পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে স্থায়ী বা কঠোর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা চলছে।
অভিযুক্তরা হলেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম ও গণিত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩ মে গণিত পরীক্ষার দিন। অভিযোগ অনুযায়ী, সিসি ক্যামেরাবিহীন একটি কক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষার্থী হামিম ব্যাপারীকে বসানো হয় এবং সেখানে তাকে উত্তর লিখে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বোর্ডের ভিজিলেন্স টিম বিষয়টি হাতে-নাতে ধরলে পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুই শিক্ষক পরিকল্পিতভাবে পরীক্ষার্থীকে সহায়তা করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অনিয়মে অংশ নিতে বাধ্য করেন। এছাড়া কেন্দ্রের নিয়ম ভেঙে মেডিকেল ছাড়াই আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে।
কক্ষ পরিদর্শক ও কেন্দ্র সচিবও তদন্তে জানান, চাপ ও প্রভাবের মাধ্যমে এ অনিয়ম সংঘটিত হয় এবং এতে আর্থিক লেনদেনের সন্দেহও রয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের বিধিমালা এবং পাবলিক এক্সামিনেশন আইনের আওতায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পূর্বেও জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তিনি এখনো দায়িত্বে বহাল আছেন বলে জানা গেছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে