গান-কবিতা ও আলোচনায় শিলাইদহে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন
শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬ ২:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গান, কবিতা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় বিশ্বকবিকে।
শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের সূর্যকিরণ। সূর্য যেমন আলো দিয়ে অন্ধকার দূর করে, তেমনি রবীন্দ্রনাথ তাঁর সাহিত্যকর্ম দিয়ে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে আলোকিত করেছেন।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন মানবতাবাদী ও কৃষক দরদি মানুষ। তিনি কখনোই জমিদারদের প্রচলিত আচরণে কৃষক ও প্রজাদের সঙ্গে ব্যবহার করেননি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান। ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক স্মারক বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ওয়াকিল আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহরাব উদ্দিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
সরেজমিনে দেখা যায়, রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও আলপনায় সজ্জিত করা হয়েছে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণ। উন্মুক্ত মঞ্চে চলছিল রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটে আসেন কবিপ্রেমী মানুষ। তবে এবার কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণে বসেনি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা।
কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী শ্রেহা খাতুন জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করতে পেরে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাইল হোসেন বলেন, “অনেকদিন ধরেই শিলাইদহ কুঠিবাড়ি দেখার ইচ্ছা ছিল। জন্মজয়ন্তীর এই উৎসবমুখর পরিবেশ সত্যিই অসাধারণ।”
দৌলতপুর থেকে আগত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অঞ্জলি রাণী বলেন, “রবীন্দ্রনাথ শুধু জন্মদিনেই নয়, সারা বছরই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হওয়া উচিত। কুঠিবাড়িকে কেন্দ্র করে গবেষণাগার ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গড়ে তোলা প্রয়োজন।”
জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান জানান, তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে