শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন শুরু, তিনদিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন
শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬ ১:৪৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি-এ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে কুঠিবাড়ির মূল মঞ্চে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি আফজাল হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শিলাইদহ কুঠিবাড়িকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থানগুলো পর্যটনবান্ধব করার কাজও সরকার এগিয়ে নিচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। তিনদিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা। জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব ঘিরে কুঠিবাড়ি এলাকায় রবীন্দ্রপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, জমিদারি তদারকির জন্য ১৮৯১ সালে প্রথমবার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এখানকার নিভৃত পরিবেশে তিনি দীর্ঘ সময় অবস্থান করে রচনা করেন অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম, যার মধ্যে অন্যতম গীতাঞ্জলি। এই কাব্যগ্রন্থের জন্যই তিনি নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। পাশাপাশি এখানেই রচিত হয় জাতীয় সংগীতসহ তাঁর বহু বিখ্যাত রচনা, যা আজও বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
১৫২ বার পড়া হয়েছে