সময়ের সম্মান
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাইক্রোফোন হাতে পেলেই আমাদের অনেক রাজনীতিকের মধ্যে আশ্চর্যজনক রূপান্তর ঘটে। মনে হয়, শব্দের এই ছোট্ট যন্ত্রটিই বুঝি অনন্তকাল কথা বলার সাংবিধানিক অধিকার দিয়েছে তাঁকে!
সময় নির্ধারিত, শ্রোতা অপেক্ষমাণ; কিন্তু বক্তার বক্তব্য যেন শেষ হওয়ার নাম নেই। আহ, মাণ্যবর রাজনীতিক...!
ভূমিকা, শুভেচ্ছা, কৃতজ্ঞতা, তোষণ; সব পেরিয়ে মূল কথায় পৌঁছাতে পৌঁছাতেই শ্রোতার ধৈর্য প্রায় শেষ।
অথচ সংসদে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্পিকারের কণ্ঠে যখন উচ্চারিত হয় আর এক মিনিট... সময় শেষ।
তখন দীর্ঘ বক্তৃতার অভ্যস্ত নেতাকেই জনসম্মুখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয় সময়ের কঠিন পরীক্ষায়। তখন বোঝা যায়, সময় অতিক্রম করার অভ্যাস আসলে বক্তব্যের শক্তি নয়, আত্মশৃঙ্খলার দুর্বলতা।
রাজনীতির এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে মঞ্চ থেকেই। প্রতিটি সভায় নির্দিষ্ট সময়, দৃশ্যমান টাইমার এবং সময় শেষ হলে মাইক্রোফোন বন্ধ করার নিয়ম কেবলমাত্র সৌজন্য নয়, সৌন্দর্য।
কারণ রাজনীতিতে শ্রেষ্ঠ বক্তা তিনি নন, যিনি সবচেয়ে বেশি সময় কথা বলেন। বরং শ্রেষ্ঠ বক্তা তিনি, যিনি অল্প সময়ে সবচেয়ে বেশি অর্থপূর্ণ কথা বলতে পারেন।
আমাদের মনে রাখা দরকার, সময়কে সম্মান করা মানেই সামনে উপবিষ্ট জনগণের সময়কে সম্মান করা। আর জনগণের সময়ই রাষ্ট্রের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
১২৬ বার পড়া হয়েছে