শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তের তালিকা তৈরির কাজ শুরু, হলফনামার তথ্য আবারও আলোচনায়
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতনের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গণমাধ্যমে জানিয়েছেন—বাজেয়াপ্তযোগ্য সম্পদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা নিয়েও কাজ হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে ২০২৪-এর নির্বাচনী হলফনামায় ঘোষিত তাঁর সম্পদের তথ্য আবারও আলোচনায় এসেছে।
২০২৪-এর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী শেখ হাসিনার নামে মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ বাংলাদেশি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা টাকা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্র ২৫ লাখ টাকা এবং স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ৫৫ লাখ টাকা। গয়না-স্বর্ণের মূল্য দেখানো হয়েছিল ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তিনি তিনটি গাড়ির মালিকানাও ঘোষণা করেছিলেন, যার একটি উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন বলে উল্লেখ ছিল। কৃষিজমি ছিল ১৫.৩ বিঘা, যার মূল্যায়ন করা হয়েছিল প্রায় ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।
ভূমি দফতর ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমে যেসব তথ্য এসেছে, তাতে গাজীপুরের মৌচাকের তেলিরচালা এলাকায় পারিবারিক বাগানবাড়ির উল্লেখ রয়েছে; জমিটি মূলত ১৯৭০-এর দিকে বঙ্গবন্ধুর নামে লিখে দেওয়া হয়েছিল, পরে উত্তরাধিকারসূত্রে শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানার নামে আসে এবং কিছু অংশ সন্তানদের নামে হস্তান্তর করা হয়। ঢাকার পূর্বাঞ্চলে তাঁর নামে একটি প্লটের কথাও হলফনামায় উঠে এসেছে।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি সরাসরি শেখ হাসিনার নামে নয়; ভূমি কার্যালয় সূত্রে বলা হয়েছে, এটির মালিকানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের হাতে। অন্যদিকে, ধানমন্ডিতে তাঁর বাসভবন সুধা সদনের মালিকানা তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদের নামে রয়েছে বলে ভূমি দফতর সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
১৭ নভেম্বর ২০২৫ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেয়। তবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি, পদ্ধতি এবং বাজেয়াপ্তযোগ্য সম্পদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরির কাজ ধারাবাহিকভাবে চলছিল। ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে এই প্রক্রিয়া এগোচ্ছে এবং তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ফলে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রসঙ্গে কোন কোন সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে—সেই প্রশ্নটি আবারও প্রাধান্য পাচ্ছে।
এই পর্যায়ে ২০২৪-এর হলফনামায় ঘোষিত সম্পদের তথ্য পুনঃপ্রকাশিত হওয়ায় সাধারণ প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—কোন সম্পদগুলো সরাসরি তাঁর নামে আছে, কোনগুলো ট্রাস্ট বা পরিবারের সদস্যের নামে, এবং বাজেয়াপ্তের আওতায় কী কী আসতে পারে। আইনজীবীদের মতে, বেনামি বা অপরাধলব্ধ অর্থের প্রমাণ সাপেক্ষে আলাদা আদালতি প্রক্রিয়াও লাগতে পারে; তাই তালিকা তৈরির পরবর্তী ধাপগুলো আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
চিফ প্রসিকিউটরের বরাতে গণমাধ্যমে যে চিত্র এসেছে, তাতে পরবর্তী ধাপ হিসেবে বাজেয়াপ্তযোগ্য সম্পদের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে নোটিশ বা আদেশ পাঠানো, এবং পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ বিতরণের প্রক্রিয়া নির্ধারণের কথা বলা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়নের পথ খুলবে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।
১৩১ বার পড়া হয়েছে