নভেম্বরের মাঝামাঝি শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিগগিরই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তবে তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ জানাননি তিনি।
নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেছেন, শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তবে ঠিক কোন তারিখে তফসিল ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাননি তিনি।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে আইন পরিবর্তন না হয়, তবে আমরা বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা করব।’
স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ঘোষণা করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি। তবে শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলতি মাসেই এ নির্বাচনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একটি পর্যায়ে এগিয়ে গেলে পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, চলতি মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে জানানো হতে পারে বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
নির্বাচনের সময় নির্ধারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষা ও টেস্ট পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। কারণ, ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করা হয় এবং শিক্ষকেরা প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় ওই সময় বাদ দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে যেসব নির্বাচন আইনগতভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আয়োজন করা বাধ্যতামূলক, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা ও ভোটের পরিবেশ নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইসি। অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এবার সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত মুভমেন্ট নিশ্চিত করতে ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হবে।
নির্বাচন ঘিরে অপতথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি মোকাবিলায়ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে কিছুটা কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও ভিআইপিরা যাতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে বিধান রাখা হচ্ছে।
পচনশীল নয়—এমন দ্রব্য ও পোস্টার ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত আচরণবিধির প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ হলো, কোনো শিক্ষক প্রার্থী হলে তাঁর সহকর্মীরা প্রচারে যুক্ত হতে পারেন। এতে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব কমানো এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে একটি পর্যবেক্ষণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
১২৩ বার পড়া হয়েছে