সর্বশেষ

সারাদেশ

পটুয়াখালীর হাসপাতালে ঠিকাদার বদল হলেও কাটেনি অনিয়মের ভূত

মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, পটুয়াখালি
মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, পটুয়াখালি

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:২১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দীর্ঘ ১৮ বছর পর রোগীর পথ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার পরিবর্তন করা হলেও অনিয়মের অভিযোগ থেকে মুক্তি মেলেনি। এবার সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা বেশি দরের আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক বঞ্চিত ঠিকাদার।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১১ জুলাই পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা রোগীদের খাবার ও স্টেশনারিসহ কয়েকটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করেন। এতে অংশ নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হন আলতাফ হোসেন নামের এক ঠিকাদার। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইন লঙ্ঘন করে তাকে কার্যাদেশ না দিয়ে উচ্চমূল্যে প্রস্তাবকারী অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী আলতাফ হোসেন জানান, রোগীর পথ্য সরবরাহের জন্য তিনি ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার দরপ্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু তাকে বঞ্চিত করে ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের প্রায় ৩২ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন করেছে। একইভাবে ১২ লাখ টাকার সর্বনিম্ন স্টেশনারি সরবরাহের কাজটির বিপরীতে ১৮ লাখ টাকার দরদাতাকে কার্যাদেশ দিয়ে আরও ৬ লাখ টাকার অনিয়ম করা হয়েছে।

হাসপাতালটির ইতিহাস বিশ্লেষণে জানা যায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে টানা দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে রোগীদের খাবার সরবরাহের কাজ একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করছিলেন পটুয়াখালী পৌর আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক সহিদুল ইসলাম। জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনে বারবার অভিযোগ করেও তাকে হটানো যায়নি। ২০১৬ সালে নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হলে তিনি আদালতে মামলা ঠুকে দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় মামলাটি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে এবং আওয়ামী লীগ নেতাই বহাল তবিয়তে কাজ করতে থাকেন।

চলতি বছরের ১ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের হওয়া এক অভিযোগে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মু. হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাবেক ওই ঠিকাদারের ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ার অভিযোগও আনা হয়। রোগীদের খাবারে নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়া এবং পরিমাণে কম দেওয়ার মতো বহু অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল বলে জানা যায়।

এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা এবং হিসাবরক্ষক হাসানুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, সরকারি ক্রয় বিধিমালা লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই। এই বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১০৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০