ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) দলের মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করেছে দলটি।
রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। পরে সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় এনসিপি।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে ওই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক নজর রাখার নির্দেশও দেন নাহিদ ইসলাম।
সভায় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েক দিন আগে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হন। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটির ভোটার আসিফ মাহমুদ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেন।
এর আগে গত মার্চে এনসিপি জানিয়েছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট না করে এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তখন ঢাকা উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদীব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী করার কথা জানানো হয়েছিল। প্রায় ছয় মাস পর সেই অবস্থান পরিবর্তন করে উত্তরে আসিফ মাহমুদ এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করল দলটি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হলেও দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল তুলনামূলক কম। মির্জা আব্বাস পেয়েছিলেন ৫৯ হাজার ভোট এবং নাসীরুদ্দীন পেয়েছিলেন ৫৪ হাজার ভোট। ওই নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন ঢাকা-১৮ আসনের ভোটার ছিলেন। ফলে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হলেও নিজে ভোট দিতে পারেননি।
অন্যদিকে সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ আসনের ভোটার থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন আসিফ মাহমুদ। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হননি। পরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি দক্ষিণ সিটির ধানমন্ডির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার থেকে উত্তর সিটির আফতাবনগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হন।
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, এনসিপির পরিচালিত কয়েকটি জরিপে উত্তরে তাঁর অবস্থান ভালো এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান ভালো পাওয়া গেছে। সেই বিবেচনায় ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা হয়েছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো জোট হবে না। ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকরা নিজেদের মতো করে নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জোট হতে পারে। ঢাকা উত্তরে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে দলটি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার উত্তরের আটটি আসনের চারটিতে জামায়াত জয়ী হয়েছে। দক্ষিণের সাতটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে জয় পেয়েছে দলটি। জোট-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ঢাকা দক্ষিণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। এই রাজনৈতিক সমীকরণও এনসিপি বিবেচনায় রাখছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের এখনও প্রায় আট থেকে দশ মাস সময় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর মতে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
জোট-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচনে সরকার ও সরকারি দলের ভূমিকা কেমন হয়, তা বোঝা যাবে। এরপর পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোট করা বা না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে