কটিয়াদীতে মাদকের টাকার জন্য পাঁচ শিশু বিক্রির অভিযোগ
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে চার পরিবারের পাঁচ শিশুকে ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাগুলো জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশু বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কটিয়াদী উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। তাঁদের ভাষ্য, গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। এসব পরিবারের নারী-পুরুষের কেউ কেউ মাদকাসক্ত। মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে তাঁরা নিজেদের সন্তান বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের জাকির মিয়ার পরিবারে আগে দুই সন্তান ছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর তাঁদের আরও একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। অভিযোগ রয়েছে, জন্মের পরপরই শিশুটিকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে পাশের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকায় বিক্রি করা হয়।
জাকির মিয়া বলেন, তাঁর স্ত্রী ফারজানা তাঁকে না জানিয়ে শিশুটিকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। পরে তিনি জানতে পারেন, দুই নারী দালালের মাধ্যমে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছে। ওই দুই নারী তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে তিনি জানান। ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী আর বাড়িতে ফেরেননি বলেও দাবি করেন জাকির মিয়া।
জাকির মিয়ার পরিবারের মতো একই গ্রামের আরও তিন পরিবারের চার শিশুকে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব শিশুর প্রত্যেককে ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাদ্দাম হোসেন তাঁর দুই স্ত্রীর দুই সন্তান, মো. জাকির হোসেন তাঁর এক সন্তান এবং আসাদ-সোমা দম্পতি তাঁদের এক সন্তান বিক্রি করেছেন।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার রয়েছে। মাদক সেবনের অর্থ জোগাড় করতেই শিশু বিক্রির মতো ঘটনা ঘটছে। এতে নিজেদের সন্তানদের নিয়েও আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
চরপুক্ষিয়া গ্রামের গ্রাম পুলিশ দুলাল মিয়া বলেন, সন্তান বিক্রি করে অনেকে ইয়াবা সেবন করেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে ভয়ে তাঁরা অনেক সময় প্রতিবাদ করতে পারেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোনোভাবেই এটি প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশু বিক্রির অভিযোগ পাওয়া পরিবারের অনেকেই মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি তাঁরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল। একটি অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছে। মাদক ও শিশু বিক্রি বন্ধে সামাজিক সচেতনতা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে