দৌলতপুরে পদ্মার পানি কমলেও কাটেনি বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ বিতরণ
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি কিছুটা কমলেও বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। পানিবন্দী হাজার হাজার মানুষের মাঝে সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বরাদ্দের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি গত ৯ ঘণ্টায় ১ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে ১৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটারে নেমেছে। যদিও পানি বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও চরাঞ্চলের বাড়িঘর থেকে পানি পুরোপুরি নামেনি।
বন্যার কারণে উপজেলার ৩ হাজার ২৩ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৬ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন জানান, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমন ধান, মরিচ ও শীতকালীন সবজির খেত।
সীমান্তবর্তী রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যায় ডুবে যাওয়ায় চরাঞ্চলের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক ও ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গোখাদ্যের তীব্র সংকট।
দুর্গতদের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে ১৮ মেট্রিক টন চাল এবং শুকনো খাবারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের মানিকের চরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস জানিয়েছেন, দুর্গত মানুষের তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সকল ইউনিয়নে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও সাহায্য কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
১২৮ বার পড়া হয়েছে