কলাপাড়ায় কোটি টাকার পানির পাম্প অকেজো, নেপথ্যে হরিলুট ও অনিয়ম
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভায় কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত পানির পাম্পটি উদ্বোধনের পর থেকেই অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তৈরি এই পাম্প দিয়ে পানির সাথে অনবরত বালু ওঠায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ নাগরিকরা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
কলাপাড়া পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণীর এই পৌরসভায় বর্তমানে পানির নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৮৬০ জন। পুরো পৌর এলাকায় দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ২৮ লক্ষ লিটার হলেও জেনারেটর বিকল থাকা এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গ্রাহকরা তীব্র পানি সংকটে ভুগছেন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকলে বড়জোর ১৫ থেকে ২০ লক্ষ লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হলেও বিদ্যুৎ চলে গেলে পানির পাম্পগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
পৌরবাসীর পানি সংকট মেটাতে সম্প্রতি এতিমখানা এলাকায় প্রায় ৭০ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি নতুন পাম্প হাউস নির্মাণ করা হয়। তবে উদ্বোধনের পর ৫৭ লক্ষ লিটার পানি তোলার পরও অনবরত বালু আসায় পাম্পটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনি বা সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি জেনারেটর কেনা হয়েছিল। এছাড়াও সিটিআইইপি (CTIEP) প্রকল্প থেকেও আরেকটি জেনারেটর দেওয়া হয়। তবে নতুন জেনারেটর ক্রয়ের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হলেও বাস্তবে নামমাত্র মূল্যে রয়েছে সেকেন্ড হ্যান্ড জেনারেটর সরবরাহ করায় সেগুলো প্রায়শই বিকল থাকে। শুধু তাই নয়, নতুন পাম্পটি নির্মাণেও চরম নকশা বহির্ভূত নিম্নমানের ইউপিভিসি (UPVC) পাইপ ও নিম্নমানের ফিল্টার ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ই-জিপি টেন্ডারের মাধ্যমে বরগুনার 'কামাল এন্টারপ্রাইজ' কাজটি পেলেও স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমানের যোগসাজশে কাজটি সম্পন্ন করেন। নিম্নমানের উপকরণের বিষয়টি ঢাকা দিতে এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তৎকালীন সময়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলির হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। যদিও সাবেক ওই প্রকৌশলী তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি করেছে। তবে লাইসেন্সধারী হিসেবে তারা পাম্পটি সচল করতে দ্রুত টেকনিক্যাল টিম পাঠাবে। অন্যদিকে, কলাপাড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এক বছরের রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির আওতায় তারা যদি পাম্পটি সচল করতে ব্যর্থ হয়, তবে জামানতের টাকা বাজেয়াপ্তসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১৭ বার পড়া হয়েছে