সর্বশেষ

খেলা

বিপিএল না হওয়ায় ঘরোয়া ম্যাচ ফি বাড়ানোর দাবি, ক্রিকেটারপ্রতি ৩০ লাখ

স্পোর্টস রিপোর্টার
স্পোর্টস রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৪৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পরবর্তী আসর না হওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিসিবির আয়োজনে চারটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন ক্রিকেটার ভবিষ্যতে এসব টুর্নামেন্ট থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা আয়ের সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ঘরোয়া ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয় বোর্ড সভাতেই পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

এর প্রায় পাঁচ মাস পর ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা আবারও আলোচনায় এসেছে। এবার ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। বিসিবির সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে এ বিষয়ে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।

বর্তমানে বিসিবির আয়োজনে চারটি প্রধান ঘরোয়া টুর্নামেন্ট রয়েছে। এগুলো হলো জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের সংস্করণ, বিসিএল ওয়ানডে এবং এনসিএল টি-টোয়েন্টি।

ক্রিকেটারদের প্রস্তাব হলো, এই চার টুর্নামেন্টে ম্যাচ ফি এমন পর্যায়ে উন্নীত করা, যাতে একজন খেলোয়াড় সারা বছর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে সম্মানজনক আয় করতে পারেন। সব মিলিয়ে একজন ক্রিকেটারের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকার আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য তাঁদের।

প্রথম শ্রেণির দুই টুর্নামেন্টে সর্বশেষ ম্যাচ ফি ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এর আগে ম্যাচপ্রতি ৭৫ হাজার টাকা পাওয়া ক্রিকেটারদের ফি বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়। এবার সেই অঙ্ক আরও বাড়ানোর দাবি উঠেছে।

এদিকে বিসিএলের দুটি সংস্করণেও পরিবর্তন আসছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামোর আদলে নতুন নামে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা বিসিএলের দুটি টুর্নামেন্টে পরবর্তী আসর থেকে দলসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পাবেন।

কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো ঘরোয়া ক্রিকেটের মাধ্যমে সর্বোচ্চসংখ্যক ক্রিকেটারকে আর্থিকভাবে লাভবান করা। দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটারকে কীভাবে উপকৃত করা যায়, সেটিই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। ম্যাচ ফি বাড়িয়ে এমন একটি পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে একজন ক্রিকেটার সারা বছর আর্থিকভাবে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারেন।

মিঠুন আরও জানান, ক্রিকেটারদের প্রস্তাবগুলোতে বিসিবি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। শিগগিরই বোর্ড সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ক্রিকেটারদের দাবি বাস্তবায়িত হলে বিসিবির ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নয় বোর্ড। টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা বোর্ডের আগেই ছিল।

তাঁর মতে, ক্রিকেটাররা দাবি না জানালেও তাঁদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতো। বিসিবির লক্ষ্য হলো, ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতে খেলে একজন ক্রিকেটার যেন বছরে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

আলমগীর আরও বলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরোনো তিনটি টুর্নামেন্টকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই কাঠামো কার্যকর হলে টুর্নামেন্ট থেকে আয় বাড়বে এবং তার একটি বড় অংশ ক্রিকেটারদের পেছনে ব্যয় করা সম্ভব হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, তিনটি টুর্নামেন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা আয় হলে ক্রিকেটারদের পেছনে ৫ কোটি টাকা ব্যয় করতেও বোর্ডের সমস্যা হবে না।

ক্রিকেটারদের প্রস্তাব এখন বিসিবির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায়। সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি ও মোট আয়—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

১২৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
খেলা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন