সর্বশেষ

জাতীয়

তীব্র গ্যাস সংকটে বন্ধ হচ্ছে সিএনজি স্টেশন, দুর্ভোগে নগরবাসী ও শিল্পখাত

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বাসাবাড়ি এবং শিল্পকারখানায় ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। গ্যাস না থাকায় অনেক সিএনজি স্টেশন বন্ধ রয়েছে, চালকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে রান্না ব্যাহত হচ্ছে এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
গ্যাস সংকট

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, আবাসিক গ্রাহক ও শিল্পখাতে। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে রাজধানীর একের পর এক সিএনজি স্টেশন কার্যক্রম সীমিত করেছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। কোথাও সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ হলেও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক স্টেশন সেবা দিতে পারছে না। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেকেই গ্যাস সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

ধানমন্ডি এলাকার এক সিএনজিচালক জানান, আগে দিনে একবার গ্যাস নিলেই সারাদিন গাড়ি চালানো সম্ভব হতো। এখন কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ট্যাক্সিক্যাব চালক মিজান বলেন, গ্যাসের অভাবে নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে যেমন চালকদের আয় কমছে, তেমনি যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।

চানখাঁরপুল এলাকার আরেক সিএনজিচালক জানান, কয়েকটি স্টেশন ঘুরেও গ্যাস পাননি। অনেক স্টেশনে ‘লাইনে গ্যাস নেই’ উল্লেখ করে সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে গাড়ি চালাতে না পারায় জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।

গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহকেরাও বিপাকে পড়েছেন। দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে বৈদ্যুতিক হিটার, ইনডাকশন চুলা কিংবা এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার বাড়িয়েছেন। এতে পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয়ও বেড়েছে।

মিরপুরের বাসিন্দা তাসলিমা বলেন, সকালে ও দুপুরে চুলায় গ্যাস থাকে না। রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এলে তখনই রান্নার কাজ সারতে হয়। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে।

শুধু আবাসিক নয়, শিল্পকারখানাতেও সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালালেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে পুনর্গ্যাসীকৃত এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের অধিভুক্ত এলাকায় সব ধরনের গ্রাহক গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপের মুখে পড়তে পারেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে। এতে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের মেরামতকাজ চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

১১৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন