আদানির বন্ধ ইউনিট চালু, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটি চালু করা হয়। জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় সম্পন্ন হলে দুপুরের মধ্যেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটি নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু করা সম্ভব হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটির জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় বা সিঙ্ক্রোনাইজেশন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ওই ইউনিটের বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এটি বন্ধ করতে হয়।
ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গোড্ডা কেন্দ্রের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বিকল হওয়ার আগে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। পরে উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। এতে জ্বালানি সংকটের কারণে আগে থেকেই চাপে থাকা দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থায় আরও চাপ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তারা জানান, বয়লারের ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামত শেষ হওয়ায় দ্রুত ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরেছে।
এর আগে কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছিল না। আদানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, রেলপথে যানজট, কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং অতিবৃষ্টির কারণে কেন্দ্রটিতে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হয়। ফলে প্রয়োজনীয় কয়লার মজুত নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে আগস্টের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে কেন্দ্রটির উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। দিনের বেলায় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় তা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়। পরে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি করা সম্ভব হলেও তখনই বয়লারের ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র অন্যতম বড় আমদানি উৎস। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, বন্ধ ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়বে। এতে চলমান লোডশেডিংয়ের চাপও কিছুটা কমতে পারে।
১১১ বার পড়া হয়েছে