সংসদে পাস ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট, ১ জুলাই থেকে কার্যকর
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ ১১:৫৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন পেয়েছে। নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে বাজেট কার্যকর করার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নতুন অর্থবছরের শুরু ১ জুলাই থেকে এ বাজেট কার্যকর হবে। বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়ের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা, করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং কিছু কর-সংক্রান্ত সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের সঙ্গে এই বাজেট কার্যকর হবে।
এর আগে অর্থ বিল, ২০২৬-এ ৬৪টি সংশোধনী এনে তা সংসদে পাস করা হয়। সংশোধনীর মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি প্রস্তাবিত কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামের এই বাজেট বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বড়। এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশের সমান।
নির্দিষ্টকরণ বিল অনুযায়ী সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আইনের তফসিল অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করার অনুমতি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দায়যুক্ত ব্যয় ৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৫ কোটি টাকা এবং সংসদে ভোটে অনুমোদিত মঞ্জুরি ৮ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ কোটি টাকার বেশি।
নতুন বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে অর্থ বিভাগের জন্য। এরপর রয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, খাদ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।
উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যা আগের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ৩ লাখ কোটি টাকা।
নতুন অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে। এরপর আয়কর ও মুনাফার ওপর কর, আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।
সরকার নতুন অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
অর্থ বিলে আনা সংশোধনীর ফলে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর করহার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলা, সম্পত্তি নামজারি ও বণ্টননামা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
নতুন বাজেট অনুমোদনের মাধ্যমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সরকারের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলো। আগামী ১ জুলাই থেকে বাজেট কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বরাদ্দ অনুযায়ী ব্যয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
১১০ বার পড়া হয়েছে