মিরপুরে ঐতিহাসিক জয়: পাকিস্তানকে হারিয়ে টেস্ট জয় বাংলাদেশের
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঘরের মাঠে টেস্টে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েকে হারালেও পাকিস্তানের বিপক্ষে আগে কখনো জয় পায়নি বাংলাদেশ। তবে এবার ইতিহাস বদলে দিল টাইগাররা।
পাকিস্তানের মাটিতে ২০২৪ সালে টেস্ট জয়ের পর এবার ঘরের মাঠেও পাকিস্তানকে টেস্টে হারানোর কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। শেষ বিকেলে নাহিদ রানার তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়ে যায় পাকিস্তান।
মিরপুর টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানকে মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট করে দেয় নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামদের বোলিং আক্রমণ। ফলে ১০৪ রানের এক ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। এই জয়ের মাধ্যমে টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় জয়ও নিশ্চিত করে টাইগাররা। পাশাপাশি টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইফার নেন নাহিদ রানা।
২৬৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ম্যাচের পঞ্চম দিনে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ১১৬ রান তুলে চা-বিরতিতে যায় পাকিস্তান। তখন তাদের হাতে ছিল ৭ উইকেট। অনেকেই ভেবেছিলেন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু শেষ সেশনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
শেষ সেশনে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৫২ রান, আর বাংলাদেশের দরকার ছিল ৭ উইকেট। শুরুতেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে আধিপত্য নেয় বাংলাদেশ। বিরতির পর পঞ্চম বলেই সেট ব্যাটার আবদুল্লাহ ফজলকে (৬৬) এলবিডব্লিউ করে ফেরান তাইজুল ইসলাম। পরের ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে গালিতে ক্যাচ দেন সালমান আগা (২৬)। ১২১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
ষষ্ঠ উইকেটে সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান ৩১ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ৪৪তম ও ৪৬তম ওভারে এক রানের ব্যবধানে এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন নাহিদ রানা। এরপর ১৫৪ রানে তাইজুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন হাসান আলি।
নবম উইকেটে নোমান আলিকে এলবিডব্লিউ করেন নাহিদ রানা। শেষ উইকেট হিসেবে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ক্যাচ আউট করিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। শেষ সেশনে ৪ উইকেট নেন নাহিদ রানা, আর বাকি ৩টি ভাগ করে নেন তাসকিন ও তাইজুল।
এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ২৬৭ রানের লিড নেয়। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।
চতুর্থ ইনিংসে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ২ রানে ইমাম-উল-হক আউট হন। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ বোল্ড করেন আজান আওয়াইজকে (১৫)। পরে নাহিদ রানার গতির কাছে পরাস্ত হয়ে শান মাসুদ (২) ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষকের হাতে।
বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে হাসান আলি ও নোমান আলি দুটি করে উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৪১৩ রান করে, জবাবে পাকিস্তান ৩৮৬ রান করলে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে মুশফিকুর রহিম ২২ রান করে আউট হন, লিটন দাস করেন ১১ রান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রানে থামেন, মাত্র ১৩ রানের জন্য সেঞ্চুরির সুযোগ মিস করেন। মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ২৪ রান।
শেষ পর্যন্ত বোলারদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ঐতিহাসিক ১০৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
১২১ বার পড়া হয়েছে