পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়,তৃণমূলের ভরাডুবি সরকার গঠনের পথে বিজেপি,কারচুপির অভিযোগ মমতার
মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ ২:০৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিজেপি ২০৬টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৭৮টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং কয়েকটিতে এগিয়ে রয়েছে।
এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ দশক পর ভারতের কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গে একই রাজনৈতিক দলের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজের আসন ভবানীপুরেও পরাজিত হয়েছেন।
ফলাফল প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই জয়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বাংলায় পদ্ম ফুটেছে।” অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনকে ‘অনৈতিক’ দাবি করে অভিযোগ করেন, “বিজেপি ১০০টির বেশি আসনে কারচুপি করেছে এবং নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে।”
এদিকে ফল ঘোষণার পর কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, আবির খেলা ও ডিজে সঙ্গীতের মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করা হয়।
নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ আসন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় স্থান থেকেই জয় পেয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি লড়াইয়ে পরাজিত করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাও দেখা গেছে। গণনাকেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিকে ঘিরে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গণনাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জনগণের রায় মেনে নেওয়াই গণতন্ত্রের রীতি, তবে গণনা প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। আসামে আবারও সরকার গঠনের পথে বিজেপি, কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে, আর তামিলনাড়ুতে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা দল বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে