ধলাই সেতুতে বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান: সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি, আটক-৬, কারাদণ্ড ৪ জনের
মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ ২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই সেতু এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অভিযানে সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি ছোড়া এবং ব্যাপক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনায় অন্তত ছয়জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদারের নেতৃত্বে ধলাই ব্রিজ এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি ট্রাক্টর জব্দ করা হলে স্থানীয় বালু সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রশাসনের ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউএনও’র নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে জানানো হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেলের আঘাতে উপজেলা প্রশাসনের চার কর্মচারী আহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ধলাই নদী ও আশপাশ এলাকায় প্রভাবশালী একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে চলা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি বারবার তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনাস্থল থেকে আটক ট্রাক্টরের মালিককে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে কলাবাড়ী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন কর্মকার জানান, ভোলাগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশের একটি দল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আটক ছয়জনের মধ্যে দুজনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং চারজন—মো. তেরা মিয়া (৫৫), মো. মাসুক (৪৫), মো. গিয়াস (৩০) ও মো. মিসছবাহ উদ্দিন (২০)—কে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ধলাই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন দীর্ঘদিনের সমস্যা। শক্তিশালী একটি চক্রের প্রভাবের কারণে প্রশাসনের অভিযান ঘিরে প্রায়ই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এদিকে অভিযানের সময় পুলিশ বা বিজিবির অনুপস্থিতি এবং শুধুমাত্র আনসার সদস্যদের ওপর নির্ভরতা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছে বলেও মত তাদের।
১২০ বার পড়া হয়েছে