কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি ধান পানিতে
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ ১০:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জে উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতে নতুন করে আরও প্রায় এক হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে জেলার কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলি উপজেলাসহ মোট ৮টি উপজেলার হাওরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৩৫ হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ইটনা উপজেলার হাওরেই প্রায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি ধান ডুবে গেছে।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ পরিস্থিতিতে জেলায় আনুমানিক ৩৬ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে প্রতিনিয়ত জেলার হাওরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে বাড়তি মজুরিতেও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি রোদের অভাবে মাড়াই করা শত শত মণ ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বৃষ্টির কারণে মাড়াই করা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অনেক কৃষক নতুন করে ধান কাটতেও অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে কষ্ট করে ফলানো ফসল নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের কৃষকেরা।
ইটনা হাওরের কৃষক কামাল উদ্দিন বলেন, “একদিকে ক্ষেতের পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে কাটা ধান মাড়াই করে শুকানো নিয়ে বিপাকে আছি। বৃষ্টির কারণে খলায় রাখা ধান শুকাতে না পারায় ধানে চারা গজিয়ে গেছে, কিছু ধান পচেও গেছে।”
অষ্টগ্রাম হাওরের কৃষক মনসুর মিয়া বলেন, “আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। ধান কাটার শ্রমিক পাইনি। এখন নষ্ট হওয়া ধান রোদে দিয়েছি। এসব ধান বাজারে বিক্রি করা যাবে না। তবুও দেখি, যদি কিছু ধান ভালো থাকে তাহলে ভাঙা চাল হলেও খাওয়া যাবে।”
মিঠামইন হাওরের কৃষক গফুর মিয়া বলেন, “আগে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখন বিপদে পড়ে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার নিচে কেউ কাজ করতে চায় না। তাছাড়া শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না।”
নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আখতার ফারুক জানান, রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় ৩২.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সারাদিন থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, “জেলায় মোট ১০ হাজার ৩৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসব জমিতে প্রায় ৩৬ হাজার কৃষক চাষ করেছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওরাঞ্চল। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে আমরা সতর্কভাবে কাজ করছি।”
১০৪ বার পড়া হয়েছে