সর্বশেষ

রাজনীতি

দুর্নীতি মামলায় সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:১৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকার একটি আদালতের নির্দেশে তার নামে থাকা বিপুল সংখ্যক ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক সম্পদ জব্দ হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার ৮৭টি এফডিআর হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ দেন। এসব এফডিআরে মোট জমার পরিমাণ প্রায় ২৭ কোটি ৭ লাখ টাকার বেশি বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা নগদ অর্থ, মার্কিন ডলার এবং ওয়েজ আর্নারস বন্ডও জব্দের আওতায় আনা হয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তার নামে ও ছদ্মনামে পরিচালিত একাধিক ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের লেনদেন হয়েছে, যা সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া সম্পদের উৎস গোপনের উদ্দেশ্যে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগও রয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, চলমান তদন্তে সম্পদ সরিয়ে ফেলার আশঙ্কায় আদালতের কাছে এসব হিসাব ফ্রিজের আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্ট সব আর্থিক সম্পদ নজরদারিতে আনার নির্দেশ দেন।

রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ সময় ধরে ফরিদপুর অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন এবং টানা তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার রাজনৈতিক অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে।

২০২০ সালের পর থেকে তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। একাধিক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর গ্রেফতারের পর তিনি ধীরে ধীরে এলাকা থেকে সরে যান। পরবর্তীতে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, তিনি বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

এরপর দলীয় পর্যায়েও তার প্রভাব কমতে থাকে। বিভিন্ন কমিটি থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয় এবং ২০২৪ সালের পর রাজনৈতিকভাবে তিনি প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।

স্থানীয় পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ছিল বলে জানা যায়। যদিও এসব বিষয়ে তার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ফরিদপুরে তার পৈত্রিক ও ব্যক্তিগত দুটি বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় যে বাড়িগুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরব পরিবেশ ছিল, বর্তমানে সেগুলো নীরব ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

সব মিলিয়ে দুর্নীতি মামলা, সম্পদ জব্দ এবং বিদেশে অবস্থানের গুঞ্জন—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও জনমনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন