খাওয়ার অনুপযোগী কলা বিতরণে ফরিদপুরে শিক্ষকা বরখাস্ত, ঠিকাদার নিয়ে প্রশ্ন
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুর সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা বিতরণের ঘটনায় এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার ৯৩ নম্বর শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২৫ এপ্রিল স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য সরবরাহ করা কলা ছিল কাঁচা ও খাওয়ার অনুপযোগী। পরদিন সেই কলাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। বিষয়টি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
ঘটনার পর ২৮ এপ্রিল থেকে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা গোলাপী বেগমকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন।
তিনি আরও জানান, নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের বিষয়টি লিখিতভাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনার দায় শুধু শিক্ষিকার ওপর চাপানো হলেও মূল দায়ী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এখনো শাস্তির আওতায় আসেনি। তাদের মতে, খাদ্যের মান নিশ্চিত করা ঠিকাদারের দায়িত্ব হলেও বাস্তবে তাদের জবাবদিহি অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়।
একজন শিক্ষক বলেন, “শিক্ষিকা বাজার থেকে নিজে কলা কেনেননি। ঠিকাদারই সরবরাহ করেছে। তাই শুধু শিক্ষককে দায়ী করা যথাযথ নয়।”
স্থানীয় অভিভাবকরাও একই ধরনের মত প্রকাশ করে বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানেরও জবাবদিহি জরুরি, নাহলে ভবিষ্যতেও এমন অনিয়ম ঘটতে পারে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে