সর্বশেষ

সারাদেশ

পশ্চিম জাফলংয়ে ট্যাক্স ইজারা নিলাম ঘিরে উত্তেজনা, অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:৩৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন ট্যাক্স ইজারা নিলামকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ওই নিলাম ঘিরে উত্তেজনা, হট্টগোল এবং ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন ট্যাক্স ইজারার দরপত্র গ্রহণ ও উন্মুক্ত নিলাম কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে মোট নয়জন ব্যবসায়ী অংশ নেন এবং নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র জমা দেন। দুপুর ১২টায় ফলাফল ঘোষণার কথা থাকলেও ওই সময়ের আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিনের পক্ষে ইউনিয়ন উদ্যোক্তার সহকারী উজ্জ্বল আহমেদ একটি দরপত্র জমা দেন, যেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলেও সেটি গ্রহণে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে দাবি করেন উপস্থিত ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে উপস্থিতদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, নিলাম বাক্স খোলার পর সর্বোচ্চ দরটি উজ্জ্বল আহমেদের নামে পাওয়া যায়। তবে তিনি ইউনিয়ন কর্মচারী হওয়ায় তার অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অন্য দরদাতারা। এ সময় তিনি জানান, কামাল মেম্বারের নির্দেশেই তিনি নিলামে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন বলেন, উজ্জ্বল আহমেদ কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্বে না থেকেও দরপত্র কার্যক্রমে অংশ নেয়। তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবাদ জানান এবং পরে তিনি হামলার শিকার হন বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে উজ্জ্বল আহমেদ দাবি করেন, তিনি কামাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে দরপত্রে অংশ নেন এবং তার সঙ্গে আরও অংশীদার ছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি আর মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নিলামে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আগেও ভয়ভীতি দেখিয়ে কম দামে নিলাম নিয়ন্ত্রণের ঘটনা ঘটেছে। এবারও প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে সাবেক মেম্বার ও নিলামপ্রত্যাশী ফারুক উদ্দিন বলেন, নিলাম প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না এবং ইউনিয়ন তথ্যসেবার কর্মী আগে থেকেই দরপত্র সংক্রান্ত তথ্য জানতেন বলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, পুরো নিলাম প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

১৪৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন