সর্বশেষ

রাজনীতি

সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে উত্তেজনা, জামায়াত ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তীব্র মন্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৩১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান-কে উদ্দেশ্য করে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও জামায়াতের রাজনীতি করছেন, যা তার মতে “ডাবল অপরাধ”। তিনি দাবি করেন, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারেন না।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ফজলুর রহমান ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা তাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে সম্বোধন করেন। একইসঙ্গে বয়স প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তার বয়স ৭৮ বছর এবং তিনি ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন, আর ডা. শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন।

এ সময় তার বক্তব্য ঘিরে সংসদ কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বারবার হস্তক্ষেপ করে সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের মধ্যে ব্যক্তিগত মন্তব্যের প্রসঙ্গ উঠলে স্পিকার তাকে জিজ্ঞাসা করেন, এ ধরনের মন্তব্য সংসদে কেউ করেছেন কি না। জবাবে ফজলুর রহমান বলেন, এমন মন্তব্য করা হয়েছে। তবে স্পিকার তাকে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি না নেওয়ার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়ে ফজলুর রহমান আবারও জামায়াত ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করলে তা গুরুতর অপরাধ।

বক্তব্যের সময় প্রতিবাদকারীদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের আচরণ থেকেই পরিস্থিতি বোঝা যাচ্ছে।

স্পিকার তখন সংসদীয় রীতিনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এটি দেশের জাতীয় সংসদ এবং এখানে সকল সদস্য নির্বাচিত প্রতিনিধি। তিনি সবাইকে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান এবং বলেন, “সারা জাতি লাইভ টেলিকাস্টে দেখছে—এ ধরনের আচরণে শিশুরাও লজ্জা পাবে।”

তিনি আরও বলেন, কারও বক্তব্যে আপত্তি থাকলে পরে যুক্তি দিয়ে তা খণ্ডন করা উচিত, হট্টগোল সৃষ্টি করা নয়।

পরে ফজলুর রহমান যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য ইস্যুতে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে যেসব বুদ্ধিজীবী—যেমন মুনীর চৌধুরী, আব্দুল আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার—নিহত হন, তাদের হত্যাকারী আল-বদর সদস্যদের জন্য সংসদে শোক প্রস্তাব আনা হয়েছিল, যা তিনি কঠোরভাবে বিরোধিতা করেন। তার মতে, যুদ্ধাপরাধীদের জন্য শোক প্রস্তাব গ্রহণ করলে ইতিহাসে ভুল বার্তা যাবে।

এছাড়া তিনি ৫ আগস্টের পর থানা লুট, পুলিশ হত্যা এবং অস্ত্র লুটের ঘটনাগুলোর তদন্তের দাবি জানান। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় জড়িতদের কোনোভাবেই ইনডেমনিটি দেওয়া উচিত নয় এবং যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
 

১১৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন