যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: ইরানের ৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ, অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ছে
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইরানের বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল সম্পদ জব্দের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) ডলারের সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল সম্পদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি পরিচালিত ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এর মধ্যে প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের সম্পদ সরাসরি জব্দ করা হয়েছে, আর আগেই আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার আটক করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ইরানের প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বেসেন্ট আরও জানান, শুধু ক্রিপ্টোকারেন্সিই নয়, বিভিন্ন দেশে থাকা ইরানি ব্যাংক হিসাবেও নজরদারি ও জব্দ অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যেসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা সরকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখছে, তাদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, গত বছরের মার্চে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর নির্দেশ দেন। এর কয়েক সপ্তাহ আগে আবারও এ চাপ আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি তেলের ক্রেতাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনো দেশের প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক যদি ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্য চালায়, তবে তাদের ওপরও “সেকেন্ডারি স্যাংশন” আরোপ করা হবে।
মার্কিন এই পদক্ষেপকে ইরানের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখছেন বেসেন্ট।
অন্যদিকে, ইরান এই অভিযোগ ও পদক্ষেপকে গুরুত্বহীন বলে দাবি করেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে “অসার” ও “অর্থহীন” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, এসব পদক্ষেপের কারণে উল্টো বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে