সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় চাপে নেতানিয়াহু, ইসরায়েলে বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ ৩:২৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা উদ্যোগ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য নতুন রাজনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের নিরাপত্তানীতি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতাকে ঘিরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষকের মতে, এই পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও নিরাপত্তা কৌশলকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

নেতানিয়াহু দীর্ঘ সময় ধরে ইরানকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজের রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের অবস্থানের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর সামনে কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জাতীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে লিকুদ পার্টি ও ক্ষমতাসীন জোটের কয়েকজন কট্টরপন্থী নেতাও সমঝোতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো চুক্তিকে বাধ্যতামূলক হিসেবে দেখা উচিত নয়।

লিকুদ পার্টির সংসদ সদস্য অ্যারিয়েল কালনারও জানিয়েছেন, ইসরায়েল তার নিরাপত্তার প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে থাকবে। যদিও তিনি ভবিষ্যৎ সামরিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ও হিজবুল্লাহ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবস্থান ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি করেছে। মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা ও ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সিমা শিনে বলেন, লেবাননের পরিস্থিতি নির্ধারণে ইরানের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য ইতিবাচক নয়।

তবে এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বা সামরিক ইস্যুতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানালেও এবার তাঁর নীরবতা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল যে আক্রমণাত্মক নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করে, তার দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল এখন মূল্যায়নের মুখে পড়েছে। গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার ফলে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস)-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে আরও বাস্তবসম্মত ও সংযত নীতি গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান—সব মিলিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১২৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন