সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যাওয়ার আগে যা জানা জরুরি
রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পর্যটকদের জন্য আবারও খুলেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। শুরু হয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। এবার দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগও থাকছে। তবে ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করতে আগেভাগে জাহাজের টিকিট, যাতায়াত খরচ, আবাসন এবং দ্বীপে প্রবেশের নিয়মকানুন সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সেন্টমার্টিন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। পর্যটন মৌসুমে দ্বীপটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে কয়েকটি বিষয়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। বিশেষ করে জাহাজের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে দেরি করলে শেষ মুহূর্তে ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
আগেভাগে সংগ্রহ করুন জাহাজের টিকিট
সেন্টমার্টিন ভ্রমণের তারিখ ঠিক করার পর যত দ্রুত সম্ভব জাহাজের টিকিট বুকিং দেওয়া উচিত। শেষ মুহূর্তে টিকিটের সংকট এড়াতে আগেভাগে আসন নিশ্চিত করা ভালো।
জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট, গ্রাহকসেবা নম্বর অথবা অনুমোদিত ভ্রমণ এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনা যাবে। বুকিংয়ের আগে যাত্রার সময়সূচি ও টিকিটের প্রাপ্যতা যাচাই করে নিতে হবে।
যেসব জাহাজে যেতে পারবেন
চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে প্রায় ১০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে-ক্রুজার ১, এমভি বারো আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ।
ভ্রমণের তারিখ চূড়ান্ত করার আগে পছন্দের জাহাজে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
জাহাজের টিকিটের ভাড়া কত
জাহাজের টিকিটের দাম নির্ভর করে আসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধার ওপর। সাধারণ আসন, বিজনেস চেয়ার, মোজার্ট চেয়ার, বেড ও কেবিনসহ বিভিন্ন শ্রেণির টিকিট রয়েছে।
যাওয়া-আসার টিকিটের ভাড়া প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাই টিকিট কেনার আগে আসনের সুবিধা, ভাড়া এবং আসন খালি থাকার বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ট্রাভেল পাসের ব্যবস্থা কীভাবে হবে
সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের ট্রাভেল পাস নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে এ জন্য আলাদাভাবে নিবন্ধন করতে হবে না।
জাহাজের টিকিট বুকিং সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন ও ট্রাভেল পাসসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সম্পন্ন করবে।
আগেই বুকিং দিন হোটেল বা রিসোর্ট
সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের পরিকল্পনা থাকলে ভ্রমণের আগেই হোটেল বা রিসোর্ট বুকিং দেওয়া ভালো। দ্বীপটিতে ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। তবে সেখানে পৌঁছে থাকার জায়গা খোঁজার চেয়ে আগেভাগে পছন্দের আবাসন নিশ্চিত করলে সময় ও ভোগান্তি কমবে।
আবাসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী ভাড়া ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত—
উন্নত মানের হোটেল ও রিসোর্ট: প্রতি রাতের ভাড়া আনুমানিক ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা।
স্ট্যান্ডার্ড হোটেল: ৪ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যেতে পারে।
ইকোনমি হোটেল ও রিসোর্ট: প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার মধ্যে থাকার সুযোগ রয়েছে।
হোটেল বুকিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে চলমান অফার ও বিশেষ ছাড় সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।
ভ্রমণে যেসব নিয়ম মানতে হবে
সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের কয়েকটি নিয়ম মেনে চলতে হবে। দ্বীপে প্রবেশের সময় প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র রাখাও জরুরি।
দ্বীপে অবস্থানকালে পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত। সৈকতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, রাতে দীর্ঘ সময় উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে রাখা এবং সৈকতে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন থেকেও বিরত থাকতে হবে।
এ ছাড়া সৈকতের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় মোটরচালিত যানবাহনের পরিবর্তে বাইসাইকেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দ্বীপটির প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণেও পর্যটকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। ভ্রমণের আনন্দ যেন প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে