মেঘের রাজ্য মারাইংতং, বাড়ছে পর্যটকের আনাগোনা
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সবুজ পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের আনাগোনা, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য—প্রকৃতির এমন রূপ দেখতে বান্দরবানের মারাইংতং পাহাড়ে ছুটে যাচ্ছেন পর্যটকেরা। লামা ও আলীকদম উপজেলার সীমান্তবর্তী এই পর্যটনকেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা ও রিসোর্টভিত্তিক সেবা সম্প্রসারিত হওয়ায় ভ্রমণপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়ছে। পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় ব্যবসায়ী, গাইড ও যানবাহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয় বাড়ার পাশাপাশি সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিতে।
বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার সীমান্তজুড়ে অবস্থিত মারাইংতং পাহাড় দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পরিচিত একটি পর্যটনকেন্দ্র। পাহাড়ের ওপর মেঘের খেলা, মাতামুহুরী নদীর মনোরম দৃশ্য এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে আসেন পর্যটকেরা।
সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ের চূড়া ও আশপাশের এলাকায় রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা এবং রিসোর্টভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধা চালু হওয়ায় পর্যটনকেন্দ্রটিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। আগে মূলত তরুণ ও ট্রেকিংপ্রেমীদের মধ্যে জনপ্রিয় থাকলেও এখন পরিবার-পরিজন নিয়েও অনেকে মারাইংতং ভ্রমণে যাচ্ছেন।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক আল ফারুক রাহাত বলেন, মারাইংতংয়ের সৌন্দর্যের কথা অনেক আগে থেকেই শুনেছেন তিনি। তবে পাহাড়ে রাত কাটানোর উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা থাকায় এবার পরিবার নিয়ে আসার সাহস পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ আগের মতোই সুন্দর। তবে থাকার ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত কিছু সুবিধা যুক্ত হওয়ায় সাধারণ পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ আগের চেয়ে আরামদায়ক হয়েছে।
পর্যটকের আগমনে বাড়ছে স্থানীয়দের আয়
মারাইংতংয়ে পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আশার সঞ্চার করেছে। পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটক গাইডের কাজ এবং যানবাহন পরিচালনার মাধ্যমে আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আজহার হোসেন জানান, মারাইংতং অনেক পুরোনো পর্যটনকেন্দ্র হলেও আগে এখানে মূলত তরুণেরা ক্যাম্পিং করতে আসতেন। বর্তমানে রিসোর্ট ও রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা হওয়ায় সারা বছরই কমবেশি পর্যটকের দেখা মেলে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, গাইড ও যানবাহন পরিচালকদের আয়ের সুযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে।
নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় নজরদারি
পর্যটনকেন্দ্রটির জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, মারাইংতং এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটন আকর্ষণ। সময়ের সঙ্গে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট রয়েছে।
তিনি জানান, পাহাড়ের সৌন্দর্য যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিতভাবে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া গেলে মারাইংতং ভবিষ্যতে পার্বত্য বান্দরবানের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখতে পারে।
আশপাশেও ঘুরে দেখার সুযোগ
মারাইংতং পাহাড় ভ্রমণে গেলে আশপাশের আরও কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। লামা উপজেলার মিরিঞ্জা ভ্যালি ও মারাইংছা হিল ভ্রমণপথে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করতে পারে।
এ ছাড়া মারাইংতং ভ্রমণের পর আলীকদম সদর থেকে আলীর সুড়ঙ্গ এবং পোয়ামুহুরী সড়কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করতে পারেন পর্যটকেরা। ফলে একই সফরে পাহাড়, আঁকাবাঁকা সড়ক ও প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।
যেভাবে যাবেন মারাইংতং পাহাড়ে
ঢাকা কিংবা দেশের অন্য কোনো প্রান্ত থেকে মারাইংতং পাহাড়ে যেতে প্রথমে কক্সবাজারগামী দূরপাল্লার বাসে চড়ে চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হবে। সেখান থেকে জিপ বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত চান্দের গাড়ি কিংবা লোকাল বাসে লামা অথবা আলীকদমে যাওয়া যায়।
এরপর আলীকদম সড়কের মেম্বারপাড়া কিংবা লামার সীমান্তবর্তী নির্ধারিত স্থানে নেমে পাহাড়ি পথ ধরে হেঁটে পাহাড়ের চূড়া বা রিসোর্টে পৌঁছাতে হয়। পাহাড়ি পথে চলাচলের জন্য উপযুক্ত জুতা, পর্যাপ্ত পানি এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণসামগ্রী সঙ্গে রাখা ভালো। যাত্রার আগে স্থানীয় পথনির্দেশনা ও নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য জেনে নেওয়াও জরুরি।
১২৭ বার পড়া হয়েছে