আতঙ্ক ছড়াতেই ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন: ডিএমপি
রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক তৈরির উদ্দেশ্যে একটি গ্রুপ কাজ করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যও রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে একটি চক্র। বিষয়গুলো পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. আকতার হোসেন বলেন, গত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য রয়েছেন।
তিনি বলেন, ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে পুলিশের ধারণা, একটি গ্রুপ নাশকতা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্তের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পুলিশ মোতায়েন ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের মোবাইল টহল ও পিকেট ডিউটি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
ককটেল তৈরির উপাদান কোথায় সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কারা এসব তৈরি করছে—গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে আকতার হোসেন বলেন, এর আগেও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেছে এবং বিস্ফোরক পদার্থ উদ্ধার করেছে। এসব বিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ব্যবহৃত দাহ্য পদার্থ সংগ্রহ এবং পেট্রোল পাম্পের মালিকদের সতর্ক করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন পদার্থ নানা প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। তবে নাশকতার উদ্দেশ্যে কোথাও এসব পদার্থ কেনাবেচা হচ্ছে কি না, তা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কারা নাশকতার উদ্দেশ্যে দাহ্য পদার্থ সংগ্রহ করছে, তা শনাক্ত করতে ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
১০৮ বার পড়া হয়েছে