সর্বশেষ

অর্থনীতি

সঠিক তথ্য ছাড়া স্বচ্ছতা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সঠিক তথ্য ছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করা গেলে রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথও সুগম হবে। অর্থনীতি গণতান্ত্রিক না হলে রাজনীতিতে গণতন্ত্র কার্যকর হয় না। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকলে দেশের উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয়।

সরকারি তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো তথ্য বা উপাত্ত। নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ছাড়া কার্যকর নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, পরিসংখ্যানের তথ্য হতে হবে স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও পরিমাপযোগ্য। এসব তথ্যের ওপর জনগণ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের আস্থা থাকা জরুরি। সরকারি তথ্যে কারসাজি করা হলে তা সরকারের নিজের সঙ্গেই প্রতারণার শামিল।

অর্থনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি

বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা এবং সরকারের কর্মসূচির সঙ্গে তাঁদের কাজের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

একটি নির্বাচিত সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের সমন্বয়কে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নীতিনির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বৈষম্য চিহ্নিত করা, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কোনো সমস্যার গভীরে যেতে হলে প্রথমে সে বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে হবে। অতীতের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানের লক্ষ্যেই সরকার পরিসংখ্যান ও তথ্যের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তথ্য বা উপাত্ত মূলত সরকারের হিসাবের খাতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করে।

গবেষক ও নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার

তথ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার যত বেশি তথ্য উন্মুক্ত করবে, মানুষের মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানার সুযোগ তত বাড়বে। এতে ভুলত্রুটি শনাক্ত করা এবং নীতিনির্ধারণে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা সহজ হবে।

গবেষক ও সাধারণ মানুষ যাতে সহজে পরিসংখ্যান ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য অনলাইনে একটি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, তথ্য শুধু সরকারের একক সম্পদ নয়; গবেষক, নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য তা উন্মুক্ত থাকা প্রয়োজন।

নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নের দুর্বলতা দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ জন্য উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগ বাস্তবায়নেও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্যের প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বিদ্যমান জনবল সংকট নিরসনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তথ্যভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

১২৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
অর্থনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০