সর্বশেষ

সারাদেশ

নিখোঁজ বাক্‌প্রতিবন্ধীর জমি লিখে নেয়ার অভিযোগ, অভিযুক্ত আপন ভাই

আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া
আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১৬ বছর ধরে নিখোঁজ এক বাক্‌প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রায় পাঁচ বিঘা ওয়ারিশি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাই এমদাদুল হকের (৫৫) বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ ভাইয়ের পরিবর্তে অন্য এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে তাঁর পরিচয় দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নিয়েছেন এমদাদুল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এমদাদুলের দাবি, হারিয়ে যাওয়া ভাইকে খুঁজে পাওয়ার পর তাঁর স্বেচ্ছায় দেওয়া দলিলের মাধ্যমে জমি নিজের নামে নিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দফাদারপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দফাদারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গনির তিন ছেলে ও চার মেয়ে। ছেলেরা হলেন আব্দুর রাজ্জাক, হাফিজুল ইসলাম ও এমদাদুল হক। তাঁদের মধ্যে মেজো ছেলে হাফিজুল ইসলাম বাক্‌প্রতিবন্ধী ছিলেন।

২০১০ সালের ১৮ জানুয়ারি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পেয়ারাতলা এলাকায় বসবাসরত বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাকের বাসায় বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন হাফিজুল। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগানোসহ নানা উপায়ে তাঁকে খোঁজার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘদিনেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবন্ধী ছেলেকে হারিয়ে মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এর মধ্যে এমদাদুল হক অন্য এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে বাড়িতে নিয়ে এসে নিজের ভাই পরিচয়ে আশ্রয় দেন। পরে ওই ব্যক্তিকে নিখোঁজ হাফিজুল ইসলাম হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁর প্রাপ্য ওয়ারিশি সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর ১২৯৮৪ নম্বর দলিলের মাধ্যমে দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হাফিজুল ইসলামের প্রাপ্য প্রায় পাঁচ বিঘা জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন এমদাদুল। এ বিষয়ে বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক ও বোনদের কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে জমি রেজিস্ট্রির বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা এমদাদুলের কাছে এর ব্যাখ্যা চান। তবে তাঁর দেওয়া জবাবে তাঁরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

হাফিজুল ইসলামের বোন রওশন আরা খাতুন বলেন, তাঁর মেজো ভাই ২০১০ সালের ১৮ জানুয়ারি বড় ভাইয়ের বাসা থেকে নিখোঁজ হন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে এমদাদুল কোথা থেকে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে এনে ভাই পরিচয়ে বাড়িতে রাখেন।

রওশন আরার অভিযোগ, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ওই ব্যক্তিকে নিখোঁজ হাফিজুল সাজিয়ে তাঁর ওয়ারিশি সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে গোপনে নিজের নামে লিখে নিয়েছেন এমদাদুল। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তবে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এমদাদুল হক। তিনি বলেন, তাঁর বোনসহ অন্যরা যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। হারিয়ে যাওয়ার চার-পাঁচ বছর পর তাঁর বাবা-মা হাফিজুলকে খুঁজে পান এবং বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর থেকে হাফিজুল তাঁর কাছেই থাকেন। নিজের ইচ্ছাতেই হাফিজুল তাঁর সম্পত্তি তাঁকে লিখে দিয়েছেন। এখানে কোনো ধরনের জালিয়াতি হয়নি।

এদিকে নিখোঁজ হাফিজুল ইসলামের সন্ধান পাওয়া, বর্তমানে বাড়িতে থাকা ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় এবং জমি রেজিস্ট্রির বৈধতা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

১১৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০