বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন
রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও হাইকমিশনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) ১৯৭৫ সালের এই দিনের ঐতিহাসিক ঘটনা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর তাৎপর্য স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস ও হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন, আলোচনা সভা এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়। দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
কাঠমান্ডুতে আলোচনা সভা
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে আলোচনা পর্বে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতি গঠনে এর অবদান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুরক্ষায় জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ধারণ ও সংরক্ষণে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নেপালের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ প্রায় ১০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামাবাদে জাতীয় পতাকা উত্তোলন
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সকালে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান। এ সময় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
আলোচনা সভায় হাইকমিশনার ইকবাল হোসেন খান জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মালদ্বীপে সেমিনার ও প্যানেল আলোচনা
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে একাডেমিক সেমিনার ও প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ১৯৭৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর সুদূরপ্রসারী উদ্যোগে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাইকমিশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় ইতিহাস, কূটনৈতিক উত্তরাধিকার এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের বন্ধুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। এতে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষাবিদ, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হুদ ইব্রাহিম। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. কে এম হুরিয়া পারভীন এবং মালদ্বীপের বিশিষ্ট বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি নেতা খলিলুর রহমান।
প্যারিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা। পরে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আলোচনা পর্ব শুরু হয়।
আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বাক্ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ৭ নভেম্বরের বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করা হয়। পরে অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
১২৮ বার পড়া হয়েছে