যুক্তরাজ্যে ভিসা নীতিতে পরিবর্তন, ৫ বছরেই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন এনে বিদেশি পরিচর্যাকর্মীদের জন্য পাঁচ বছর পর স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বহাল রেখেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পরিচর্যাকর্মীরা আগের নিয়মেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাবেন। এ ক্ষেত্রে ১৫ বছর অপেক্ষার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সরকার।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত নতুন অভিবাসন নীতিতে অধিকাংশ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার কথা ছিল। কিছু ক্ষেত্রে ১৫ বছর অপেক্ষার প্রস্তাবও ছিল। তবে লেবার পার্টির ভেতরে তীব্র বিরোধিতা ও সমালোচনার মুখে বিদেশি পরিচর্যাকর্মীদের জন্য ছাড় দিতে বাধ্য হয় সরকার।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব পরিচর্যাকর্মী বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেন এবং ২০২৫ সালের মে মাসের আগে যুক্তরাজ্যে এসেছেন, তাঁরা পাঁচ বছর পূর্ণ হলেই স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যাঁরা ভিসার শর্ত পূরণ করতে পারেননি, তাঁরা আরও পাঁচ বছরের ভিসা নিতে পারবেন। এরপর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ থাকবে।
সোমবার হাউস অব কমন্সে বক্তব্যে শাবানা মাহমুদ বলেন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া উচিত নয়। এ জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তবে করোনা মহামারির পর দেশের প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যে আসা পরিচর্যাকর্মীদের অবদান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য অভিবাসীদের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম
পরিচর্যাকর্মীদের বাইরে অন্য অভিবাসীদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের কম আয় করা অধিকাংশ অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে চিকিৎসক, শিক্ষকসহ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের কর্মী এবং উচ্চ বেতনভোগীরা পাঁচ বছরেই স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হবেন।
বছরে এক লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করা সর্বোচ্চ করদাতারা মাত্র তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
অন্যদিকে, ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে কিংবা অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্যে আসা শরণার্থীদের জন্য অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ করা হয়েছে। কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত থাকলে তাঁদের ২০ বছর এবং এসবের সঙ্গে যুক্ত না থাকলে ৩০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি এই পরিবর্তনকে সরকারের নীতিগত পিছু হটা বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এ সিদ্ধান্তের ফলে করদাতাদের ওপর কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ বলেন, লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপের মুখেই শাবানা মাহমুদ আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমেও সরকার বিপুল অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত হিসাব পরে প্রকাশ করা হবে।
গত মার্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বলা হয়েছিল, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার বিদেশি পরিচর্যাকর্মী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন। তাঁদের জীবনকালীন সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২০ কোটি পাউন্ড। পরিবারের সদস্যদের হিসাব যুক্ত করলে তা ৯৫০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে।
নতুন পরিকল্পনায় আগের নিয়মে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন এমন অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৯৯ হাজার থেকে কমে ৫ লাখ ১৭ হাজারে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেও উদ্বেগ
যুক্তরাজ্যে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি অভিবাসীও অভিবাসন নীতির এই পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন। বার্মিংহামে কর্মরত রাঁধুনি আশফাক জুনেদ বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাঁর স্থায়ী বসবাসের সময় ২০৩৩ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ার কথা শুনে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নিট অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যায় ২৬ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছেন। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৩ লাখ থেকে ২২ লাখ মানুষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের মধ্যম হিসাব ১৯ লাখ।
রিফিউজি কাউন্সিলের ইমরান হোসেন অনিয়মিত পথে আসা এবং কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত নন—এমন শরণার্থীদের ৩০ বছর অপেক্ষার প্রস্তাবকে অন্যায্য ও বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে সমালোচনা করেছেন।
১২৪ বার পড়া হয়েছে